জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ আটকে দিলেন মার্কিন ফেডারেল বিচারক
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ বুধবার আটকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক। এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের উদ্যোগ নাকচ করেছিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এবার তার নতুন নির্বাহী আদেশের একটি অংশও স্থগিত করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান জানিয়েছেন, প্রশাসন নতুন ও তুলনামূলকভাবে সীমিত এই নীতি কার্যকর করতে পারবে না। তবে নীতিটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা তৈরির কাজ সরকারি সংস্থাগুলো চালিয়ে যেতে পারবে।
প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশে বিচারক বলেন, চলতি গ্রীষ্মে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের উদ্যোগ বাতিল করেছে। সেই রায়ের ভিত্তিতে নতুন নীতিটিও অসাংবিধানিক হতে পারে।
এই আদেশ সেই শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যাদের ট্রাম্পের আগের নির্বাহী আদেশ কার্যকর হলে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হতো না।
বুধবার ফক্স নিউজের লরা ইনগ্রাহামের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লঁশ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মাথায় রেখেই নির্বাহী আদেশটি তৈরি করা হয়েছিল।
ব্লঁশ বলেন, 'বিচারক আমাদের পক্ষে রায় দেবেন—এমনটা আমরা আশা করিনি। তাই এটি আমাদের কাছে কোনো বিস্ময় নয়।' পরে তিনি বলেন, 'প্রয়োজনে আমরা আবার সুপ্রিম কোর্টে যাব।'
নতুন নির্বাহী আদেশের লক্ষ্য ছিল জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম আরও কঠোর করা এবং এর কিছু ব্যতিক্রম কমিয়ে আনা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, মা-বাবার অভিবাসনগত অবস্থান যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যে কেউ দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে।
আগস্টে জারি করা ট্রাম্পের নতুন আদেশে বলা হয়, কোনো শিশুর মা-বাবার কেউই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হলে এবং তাদের একজন 'শত্রু দেশের নাগরিক', 'বিদেশি সরকারের কর্মচারী' বা কথিত 'জন্ম পর্যটনে' যুক্ত থাকলে ওই শিশুকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।
বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, 'এই আদেশ স্থগিত করা না হলে ২০২৬ সালের নির্বাহী আদেশের কারণে এমন শিশুরাও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব হারাতে পারে, যাদের মার্কিন নাগরিক বলে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে।'
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারক বোর্ডম্যান আরও জানিয়েছেন, নতুন এই নীতির বিরুদ্ধে নিউ হ্যাম্পশায়ারেও আরেকটি মামলা চলমান রয়েছে।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করেছেন। গত বছর ক্ষমতায় ফিরেই তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা বা সাময়িক অনুমতি নিয়ে অবস্থান করা মা-বাবার সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে চলতি গ্রীষ্মে সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করেন। এরপর ট্রাম্প নতুন করে আরেকটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। সেটিই এখন আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
