১৫ আগস্টে নাশকতার পরিকল্পনা: গ্রেপ্তার আরও ১৫ আসামি রিমান্ডে
১৫ আগস্টে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও ১৫ আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৩ অগাস্ট) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসানের আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন–লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাকিব ওরফে রাফি, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা ওরফে লিমু, জিহাদ হাসান, আবু সাইম ওরফে সায়েম বাবু, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজিব, সানি ও রাজন মিয়া।
গত ১৫ আগস্ট আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন রোববার। এদিন কারাগারে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানি হয়।
এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসলাম মিয়া রাকিবসহ অনেকেই তাদের রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন।
একই মামলায় গত ১৯ আগস্ট যুবলীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালাসহ ১৫ জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
এর আগে, গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লক, রোড-২৮-এর একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় এই ১৫ জনসহ মোট ৫৪ জনকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে দুইজন কিশোর ছিল। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-বিরোধী আইনে ভাটারা থানায় মামলা করে পুলিশ।
পরদিন ১৪ আগস্ট ৫২ আসামিকে কারাগারে আটক রাখা এবং আইনের সংঘাতে আসা দুই শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫২ আসামিকে কারাগারে এবং দুই শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এরপর ১৫ আগস্ট তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই হাফিজুর রহমান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হয়। এ সময় তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
