‘সঠিক চুক্তি’ করতে প্রস্তুত নয় ইরান, হরমুজ আমেরিকান ভূখণ্ড: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন পুরো অঞ্চলের ওপর 'পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ' রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওয়াশিংটন কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন পুরো অঞ্চল এবং এর ভেতরের স্থলভাগগুলোর ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরান একটি চুক্তি করতে অত্যন্ত আগ্রহী, তবে আমার মতে তারা সঠিক চুক্তিটি করার জন্য এখনও প্রস্তুত নয়।'
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরানের বিষয়ে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'এর মানে, সামনে কী হয় তা আমরা দেখছি।'
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা জিতেছি কি না, সেটাও জানি না। কারণ এই মুহূর্তে আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবেই দেখছি।'
বক্তব্যের একপর্যায়ে ইরানে আরও হামলা চালানো নিয়ে রসিকতাও করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, 'আজ শুক্রবার রাত। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে। আমার আর কী করার আছে? ফিরে গিয়ে ইরানে আরও একটু বোমা হামলা চালাব?'
এরপর তিনি 'দ্য স্নেক' কবিতাটি আবৃত্তি করেন। অভিবাসনবিরোধী নীতির কথা তুলে ধরতে নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে তিনি প্রায়ই কবিতাটি ব্যবহার করেন।
জনসমাবেশে ট্রাম্প বলেন, 'যখন একটি দেশের আর কোনো নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম বা উৎপাদন ব্যবস্থা থাকে না; তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব শেষ হয়ে যায়, দ্বিতীয় সারির নেতারাও থাকে না এবং তৃতীয় সারির নেতাদের একাংশও বিলীন হয়ে যায়—তখন আসলে কী হয়? সত্যি বলতে, এটাই এখন আমার অন্যতম বড় সমস্যা; আমি বুঝতেই পারছি না কার সাথে বোঝাপড়া করব।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, 'এটা একটা সমস্যা। দুনিয়ায় এটাই একমাত্র দেশ যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না। ওরা বলাবলি করে, "কে প্রেসিডেন্ট হতে চায়?", "আরে না, আমি প্রেসিডেন্ট হতে চাই না।" কাজেই ব্যাপারটা একটু ঝামেলারই বটে।'
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান এবং তেহরানের ওপর আরোপিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলোকে কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং বিশ্বের সকল জাতির বিরুদ্ধে একটি 'যুদ্ধের ঘোষণা' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই মুখোমুখি অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
