আমদানি বাড়লেও ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি বাড়ছে না
বিএনপি সরকারের মেয়াদে, গত ছয় মাসে কয়েকটা জায়গায় স্থিতিশীলতা ফিরেছে। বিশেষ করে এই সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে, আমদানিও আগের চেয়ে বেড়েছে। এটা ভালো দিক।
উল্টোদিকে, মূল্যস্ফীতির হার এখনও অনেক বেশি। তা সত্ত্বেও ঋণের সুদহার কিছুটা কমানো হয়েছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি এখনও স্থবির। আমদানি বাড়লেও ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি বাড়ছে না। তাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
বর্তমানে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বেশ চাপের মধ্যে আছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে যে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটিও অর্জন হবে না। জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং (উৎপাদন) খাতের অবদান নেতিবাচক হয়ে গেছে। এটি পুনরুদ্ধার করতে না পারলে জিডিপিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হবে না।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গত ছয় মাসে কোনো কিছুই দেখা যায়নি। বাজেটে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা দিয়ে কি ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) হবে? সরকারের ধারণাও হয়তো এক্ষেত্রে পরিষ্কার নয়।
সরকারের ম্যাক্রোইকোনমিক (সামষ্টিক অর্থনীতি) পলিসিগুলোও পরিষ্কার না। একদিকে সরকার ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিচ্ছে, ঋণের সুদহার কমাচ্ছে, স্টিমুলাস প্যাকেজ দিচ্ছে, আবার সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করছে। ফলে মূল্যস্ফীতিও কমছে না।
সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বেশকিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়েনি।
সরকার ৫ বছর মেয়াদি রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক পলিসি তৈরি করছে। সেখানে হয়তো কোন খাতের জন্য কি করবে, তা উল্লেখ করা হবে। কিন্তু বাংলাদেশ সব সময়ই ডকুমেন্ট খুবই ভালো তৈরি করে, কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ করে না।
