পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি, অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমার থেকে ভালো এই পেইন কেউ বুঝবে না: আমির খসরু
আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পুরোপুরি একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমার থেকে ভালো এই পেইন কেউ বুঝবে না। যেখানে শেয়ার বাজার ধ্বংস হয়ে গেছে, ব্যাংকগুলো সব খালি হয়ে গেছে, দেশের তহবিলে কোনো টাকা নাই এবং দায়-দেনা রেখে গেছে।
আজ রোববার (১৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সবচেয়ে বড় কথা টাকা নাই তো নাই, এখন তো স্টার্ট (শুরু) করতে হচ্ছে মাইনাস (ঋণ পরিশোধ) থেকে। ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকা পাওয়ারে (বিদ্যুৎ খাত) বাকি রেখে গেছে। প্রচুর প্রজেক্টের নামে আমাদের দায়-দেনা সৃষ্টি করে গেছে। এসব প্রজেক্ট থেকে আমাদের কোনো রিটার্ন হবে না কোনোদিন। কিন্তু আমাকে দায়-দেনা শোধ করতে হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল তহবিলের এ অবস্থার মধ্যেও কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড করতে হয়েছে, কৃষক কার্ড করতে হয়েছে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্যটা হলো একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে যে শুধু অধিকারহীন করেছে তা নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দেশের স্বার্থ বিক্রি করে ক্ষমতায় থাকার যে প্রবণতা, যেন সবকিছু বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে হবে তাদের।
তিনি আরও বলেন, এজন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটা স্লোগান হচ্ছে, 'সবার আগে বাংলাদেশ'। এই স্লোগানের পেছনের চিন্তা হলো- আমরা যা কিছুই করি না কেন, বাংলাদেশের প্রশ্নে, বাংলাদেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো কিছুই করার কোনো সুযোগ নেই।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দ্বিতীয় স্লোগান, আমি অর্থনীতিতে ব্যবহার করি— অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিকায়ন করা- 'ডেমোক্রেটাইজেশন অব দ্য ইকোনমি'।
তিনি বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের পেছনের চিন্তাটা হলো বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের সুযোগ থাকবে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার এবং অর্থনীতির সুফল যার যার অবস্থান থেকে প্রত্যেক মানুষের কাছে যেতে হবে। এর সাথে সাথে আমরা বাজেটে 'ক্রিয়েটিভ ইকোনমি'র কথা রেখেছি। বাংলাদেশের যে মানুষগুলো যারা কোনোদিন অর্থনীতিতে ওইভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে নাই, তাদের কথা বলছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের গ্রামে-গঞ্জে কামার, কুমার, তাঁতি, কুটির শিল্প থেকে শুরু করে, যারা গান গায়, নাটক করে, থিয়েটার করে, খেলাধুলা করতে চায়, এদেরকে কোনোদিন আমরা অর্থনীতির মধ্যে আনতে পারি নাই। সরকারের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা সেগুলোতে ছিল না। এবার এই সমস্ত লোকগুলোকে আমরা অর্থনীতি কর্মকাণ্ডে নিয়ে আসছি।
আমাদের যারা প্রতিবন্ধী আছে, তাদের জন্য কিন্তু এই বাজেটে যত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা কোনোদিন হয় নাই।
বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গ্রেপ্তারের কথা স্মৃতিচারণা করে আমির খসরু বলেন, এর আগে বহুবার জেলে গিয়েছি, জেল থেকে বেরও হয়েছি। কিন্তু এবার যখন জেলে নিয়ে গেল, আমার কাছে মনে হয়েছে আমার আর বের হয়ে আসার কোনো সুযোগ নাই। এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ছিল। যেভাবে আমাকে গ্রেপ্তার করছে, যেভাবে আমার পরিবারের সদস্যদের প্রতি তাদের অ্যাটিটিউড, আচরণ এবং যেভাবে আমাকে নিয়ে গেছে, নিয়ে যাওয়ার পর আমার পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগের কোনো সুযোগ ছিল না।
তিনি বলেন, তারপর মামলা দিয়েছে পুলিশ, হত্যামামলা। পুলিশ হত্যা করে তো আর জেল থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নাই! আমি ধরেই নিয়েছি আমার আর বের হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আমি খালি ভাবতাম বাকি জীবন জেলে কীভাবে থাকব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন করেন বাংলাদেশ বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক।
