মানদণ্ডে সমস্যা থাকায় আরামকোর এলএনজিবাহী জাহাজ গ্রহণ করেনি পেট্রোবাংলা, আসবে বিকল্প কার্গো
নির্ধারিত মানদণ্ড ও সুরক্ষা শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সৌদি আরামকোর সরবরাহ করা একটি এলএনজিবাহী (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কার্গো গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেট্রোবাংলা। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওই চালানের বিকল্প হিসেবে অন্য একটি জাহাজে গ্যাসবাহী নতুন কার্গো পাঠাবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি।
লাইবেরিয়ার পতাকা বহনকারী 'আলহামরা' নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি প্রায় ৬১,০০০ টন এলএনজি নিয়ে গত ১১ আগস্ট মধ্যরাতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে পৌঁছায়। কিন্তু নিরাপত্তা বিধান ও বার্থিং (টার্মিনালে ভেড়ানোর) উপযুক্ততার ঘাটতি থাকায় সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) জাহাজটি থেকে গ্যাস খালাস করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
২৯ বছর পুরোনো আলহামরা ১৯৯৭ সালে নির্মিত একটি 'মস-টাইপ' এলএনজি বাহক জাহাজ, যার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার। ২৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৪৮ মিটার চওড়া এই জাহাজটির ড্রাফট ১১.৩ মিটার। এই জাহাজের গোলাকার ট্যাংকে এলএনজি ধারণ ও পরিবহন করা হয়।
এফএসআরইউ'তে গ্যাস খালাসের প্রয়োজনীয় সংযোগ না দেওয়ায় জাহাজটি টার্মিনালের কাছেই অবস্থান নেয়।
পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) দীন মোহাম্মদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, গ্রহণ করার মতো নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে জাহাজটি। তিনি বলেন, " এই কার্গো আমাদের অ্যাক্সেপটেন্সের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি, যে কারণে এটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।"
তিনি আরও জানান, এই প্রত্যাখ্যাত চালানের স্থানে নতুন আরেকটি চালানের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। "জাহাজটি ইতিমধ্যেই ফিরে গেছে। তারা আমাদের বিকল্প হিসেবে নতুন কার্গো সরবরাহ করবে" বলেন দীন মোহাম্মদ।
তবে জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি-গ্লোবাল-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক নুরুল আলম জানান, জাহাজটি তখনও মহেশখালী ছেড়ে যায়নি।
তিনি টিবিএসকে বলেন, "জাহাজটি এখনো মহেশখালীতেই রয়েছে। এটি খালাস না করে ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা এলে সঠিক প্রক্রিয়া মেনে জাহাজটি ফেরত পাঠানো হবে।"
এই ঘটনার কারণে দেশে এলএনজি সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক বলেন, অন্যান্য কার্গো আসার প্রক্রিয়ায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, "এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিয়মিতভাবেই কার্গো ক্রয় ও সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক বজায় রাখার চেষ্টা করছি।"
বাংলাদেশের ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) এলএনজি গ্রহণের ক্ষেত্রে যেসব কারিগরি ও নিরাপত্তাজনিত শর্ত মেনে চলতে হয়—এই ঘটনাটি তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। টার্মিনালে নোঙর ফেলা ও সংযোগ দেওয়ার আগে প্রতিটি জাহাজকেই নির্ধারিত সামঞ্জস্যতা ও নিরাপত্তার মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হয়।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যাখ্যাত চালানটির জায়গায় দ্রুত বিকল্প আরেকটি জাহাজ আসবে এবং অন্যান্য নির্ধারিত চালানের মাধ্যমে দেশে এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।
