‘আমার টাকা ফেরত চাই’: চট্টগ্রামে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে আমানত সুরক্ষা, ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক করা এবং আমানতের ওপর আরোপিত 'হেয়ার কাট' বা অর্থ কর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক—ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম'-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে 'আমার টাকা ফেরত চাই', 'হেয়ার কাট মানি না', 'আমানত নিয়ে টালবাহানা চলবে না', 'ন্যায্য দাবি আদায় না হলে ঘরে ফিরব না' ইত্যাদি স্লোগান দেন আমানতকারীরা।
তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের আমানত নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তারা। দ্রুত আমানত ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তারা। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
কর্মসূচি শেষে সংগঠনের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেয়। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তারা আমানতকারীদের জানান, তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই এবং আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন।
স্মারকলিপিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলেও আশ্বাস দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারী শারমিন আক্তার বলেন, "অর্থমন্ত্রী সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই, এই আশ্বাস বাস্তবায়ন হোক। আমাদের আমানত নিয়ে যেন আর কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে।"
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক আলাউদ্দীন আজাদ বলেন, আমানতকারীদের অনেকেই তাদের সঞ্চয়ের মুনাফার ওপর নির্ভর করে সংসার চালান। মুনাফা কমে যাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তিনি বলেন, "আমরা চতুর্থবারের মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছি। প্রতিবারই আমাদের সময় দিতে বলা হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার বিষয়টি তুলেছেন। এরপর অর্থমন্ত্রী সংসদে 'হেয়ার কাট' বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রজ্ঞাপন পাইনি।"
আলাউদ্দীন আজাদ আরও বলেন, "আমাদের মুনাফা যেখানে ১২ শতাংশ ছিল, সেখান থেকে ৮-৯ শতাংশে নেমেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫-৬ শতাংশে নেমেছে। এই মুনাফা দিয়ে আমরা কীভাবে চলব, সংসার চালাব? আমাদের অর্জিত সম্পদ ব্যাংকে রেখে সেই মুনাফা দিয়ে মাসিক খরচ চালাতাম। এখন নিজেদের চিকিৎসা করাতেও পারছি না। আমার ৮০-৮১ বছর বয়সী মায়ের চিকিৎসার খরচ চালাতেও কষ্ট হচ্ছে।"
