প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সফরে আসা ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, অর্থনীতি ও অন্যান্য খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত দলটি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় এসেছে।
ইউএসবিবিসির প্রতিনিধি দলটি গত ১১ আগস্ট ঢাকায় আসে। তিন দিনের সফর আজ ১৩ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে তারা জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছে।
সফরের শুরুতেই ১১ আগস্ট প্রতিনিধি দলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
একই দিনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের সঙ্গেও বৈঠক করে প্রতিনিধি দলটি। সেখানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
পরদিন ১২ আগস্ট প্রতিনিধি দলটি শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি নীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে জুট, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণকে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও মার্কিন ব্যবসায়ীদের জানানো হয়।
এদিন সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়।
এ ছাড়া ১২ আগস্ট ইউএসবিবিসির সভাপতি অতুল কেশপ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা এবং জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবায় মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
একই দিন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) প্রতিনিধি দলটির সম্মানে একটি নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নীতিগত সহযোগিতা এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সফরের প্রেক্ষাপটে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য সামনে এসেছে। অ্যামচেম জানিয়েছে, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। নতুন করে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সহায়তা করতে তারা কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
