‘সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ খরচ করেছি’, বিএনপি নেতার অডিও ভাইরাল
'আমি পানিওয়ালা যামু না, তোরা এইকগাও (একজনও) পৌরসভায় আসবি না' এমন কথা বলে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়াকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে না পেরে রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশ মোবাইল ফোনে এ হুমকি দেয়। এ ঘটনার কলরেকর্ড স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে বিএনপি নেতা পলাশের হুমকিমূলক মন্তব্যের আত্মপক্ষ সমর্থন করার চেষ্টা করেন অপরপ্রান্তে থাকা বিএনপি নেতা মারুফ ভূঁইয়া। মারুফ বারবারই বলেছেন, আমি কিছু বলিনি। একপর্যায়ে দু'জনই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এরমধ্যে কিছু কথা অপ্রকাশযোগ্যে।
কলরেকর্ডের কিছু অংশে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন পলাশকে বলতে শোনা যায়, 'মনোয়ার প্রধান অতিথি, আমনে (আপনি) বিশেষ অতিথির ব্যানার কইরছেন। আঁই হানিয়ালা (পানিওয়ালা) স্কুলে যাই আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারী প্রধান অতিথি ওইতে হারিনো, আমনে কন পলাশ কে? আমনে কি, সাংগঠনিক রাজনীতি কি বৃদ্ধাঙ্গুলি দিবেননি আমনে মারুফ ভূঁইয়া। আমনে বলে কইছেন, পলাইশশা কে? আমনে যদি সাংগঠনিক রাজনীতি না চর্চা করেন, আমনে ইউনিয়ন বিএনপি কিভাবে করবেন। আমার নাম কেন আসে নাই ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে? আমনে কইছেন পলাইশশা কে? আমি পানিওয়ালা যামু না, এটা আমি বলছি। তোরা এইকগাও আসবি না পৌরসভায়। আঁই প্রধান অতিথি কেন হইতে পারিনো। এ মারুফ ভূঁইয়া সাংগঠনিক রাজনীতি যদি না বুঝেন, তাহলে করিয়েন না। আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারী, আমার নাম ব্যানারে আসে নাই, আমনে কন পলাইশশা কে? নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টিয়া (টাকা) খরচ করে হালাইছি। আমনে বলেন পলাইশশা কে? আপনি পানিওয়ালাতে আসেন, সেখানে কথা হবে।'
হুমকির প্রসঙ্গে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া বলেন, 'ঘটনাটি পুরনো। পরে আমি জানানোর পর সিনিয়র নেতারা বসে সমাধান করে দিয়েছেন। পলাশ আমাকে সরি বলেছেন।'
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করলেও ধরেননি। এসএমএস পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঘনিষ্ঠ নেতা জানিয়েছে, 'ঘটনার সময় পলাশের মাথা গরম ছিল। পরে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।'
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সম্মেলন হয়। এতে ভোটে শেখ কামরুল ইসলাম সভাপতি ও গিয়াস উদ্দিন পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
