রাজশাহীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নাম বাদ পড়ায় ইউএনওর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নাম না থাকার অভিযোগে ইউএনওর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক স্লোগান দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা ইউএনওকে 'জবাই' করার স্লোগান দেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার পদে তাদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে এ বিক্ষোভ হয়। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বাগমারা উপজেলা তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান স্লোগান দিলে উপস্থিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা 'জবাই কর' বলে সাড়া দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি পরা সিদ্দিকুর রহমান হাত তুলে উত্তেজিতভাবে স্লোগান দিচ্ছেন। তার চারপাশে থাকা অন্য নেতাকর্মীরাও একই স্লোগানে যোগ দেন। পরে ব্যানার হাতে মানববন্ধনের দৃশ্যও দেখা যায়।
ব্যানারে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার পদের চূড়ান্ত ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মানববন্ধনের কথা উল্লেখ ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এ স্লোগান ওঠে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ স্লোগানটিকে হুমকিমূলক বলে সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ চলমান রয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বাগমারার ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। বাগমারায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।"
তিনি বলেন, "নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি করা হয়নি। তারপরও তাদের বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় সমস্যা থাকলে জানাতে পারেন, আমরা আবার যাচাই-বাছাই করে দেখব। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট কোনো বিষয় দেখাতে পারেননি।"
ইউএনও আরও বলেন, "এখানে বিএনপির একটি ক্ষুদ্র অংশ মানববন্ধন করেছে। তারা মূলত নিজেদের হাইলাইট করার জন্য এ মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধন তারা করতেই পারে। তবে এ ধরনের স্লোগান গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। এ প্রক্রিয়া চলমান আছে।"
এদিকে, অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, "ওটা স্লিপ অব টাঙ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই স্লোগান দেওয়া হয়নি।"
