মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী; চট্টগ্রাম সফরে বৈঠক করবেন হেফাজত আমিরের সঙ্গে, নিরাপত্তা জোরদার পুলিশের
গভীর সমুদ্র বন্দরসহ কয়েকটি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বেলা ১১টার দিকে সেখানে পৌঁছান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ চট্টগ্রামও সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য।
দিনব্যাপী সফরে কক্সবাজারের মহেশখালীর উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শেষ দিকে নগরীতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
সফরসূচি অনুযায়ী, ফটিকছড়িতে পৌঁছে বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এ সাক্ষাৎ ঘিরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলাল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম প্রস্তুত রয়েছে।"
ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাদ্রাসা পরিদর্শন ও মোনাজাতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। পরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
৭ ভেন্যু প্রস্তুত
প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও নগরীর কর্মসূচিগুলোর ভেন্যুতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নির্ধারিত ভেন্যু, হেলিপ্যাড ও সড়কপথের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নির্মিত ১০০টি ঘর হস্তান্তর, ত্রাণ বিতরণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
নিরাপত্তায় আড়াই হাজার পুলিশ
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্মসূচির ভেন্যু, হেলিপ্যাড, চলাচলের সড়ক, ভবনের ছাদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির প্রতিটি কর্মস্থল, হেলিপ্যাড, সড়কপথ, ভবনের ছাদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।"
সফরসূচিতে মহেশখালী ও বন্যার্তদের পুনর্বাসন
সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে পৌঁছায়।
প্রধানমন্ত্রীকে হেলিপ্যাডে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।
এরপর চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি।
নগরীতে বিএনপির সাংগঠনিক সভা
দিনের শেষ কর্মসূচিতে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নগরীর র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের অডিটোরিয়ামে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নির্ধারিত নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
