আমাকে বিদেশে গ্রেপ্তারের চেষ্টা ঠেকাতে তৈরি রয়েছে ইসরায়েলের ‘স্পেশাল ফোর্স’: নেতানিয়াহু
নিউইয়র্কে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কাকে তিনি ভয় পান না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বিদেশে তাঁকে গ্রেপ্তারের কোনো চেষ্টা চালানো হলে তা ঠেকানোর জন্য ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী (স্পেশাল ফোর্স) প্রস্তুত রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য দেশ না হলেও, এই গ্রেপ্তারি পরোয়নার কারণে নেতানিয়াহু এখন একজন আন্তর্জাতিকভাবে একজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি। ফলে যুক্তরাজ্যসহ আইসিসির ১২৪টি সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে নেতানিয়াহু প্রবেশ করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে আইনত তারা বাধ্য থাকবে।
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। সফরকালে ফক্স নিউজের শন হ্যানিটিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার দেন তিনি। এসময় উপস্থাপক নেতানিয়াহুর কাছে জানতে চান— "আপনি বিভিন্ন দেশ সফর করে থাকেন, ঈশ্বর না করুন আপনার যদি কোনো মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি দেখা দেয়—আর সেটা যদি আইসিসির সদস্য কোনো দেশ হয়, যেখানে বিমান নিয়ে অবতরণ করতে হয় তাহলে তো পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। আপনি এজন্য উদ্বিগ্ন কি-না?"
জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, "হ্যাঁ, আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবি। তবে আপনি জানেন, আমাদের স্পেশাল ফোর্স রয়েছে। আমি নিজেও তো পাঁচ বছর (স্পেশাল ফোর্সে) ছিলাম।"
হ্যানিটি তখন মন্তব্য করেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী "বেশ শক্ত বা কঠোর।" উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, "হ্যাঁ, চলুন তবে তাদের নতুন একটি কাজ দেওয়া যাক।" তিনি স্পষ্ট জানান, নিউইয়র্কে তাঁর নির্ধারিত ভ্রমণ বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
নেতানিয়াহু বলেন, "প্রথমত, আমি নিউইয়র্কে যাচ্ছি... এই ঘৃণা ছড়ানো নির্বাচিত কর্মকর্তার [মামদানি] সামনে দাঁড়িয়েই আমি সত্য বলব।"
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, "তিনি (মেয়র মামদানি) নিউইয়র্কের একদল মানুষকে অন্যদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছেন। তিনি মানুষদের নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছেন। আমরা কি ১৯৩০-এর দশকে বাস করছি? এত ঘৃণা! এত মিথ্যাচার!"
২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় 'যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার করা এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা করার মতো যুদ্ধাপরাধের' অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এছাড়া ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত সময়কালে 'হত্যা, নির্যাতন এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ' সংঘটনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে "ইহুদিবিদ্বেষী" (অ্যান্টি-সেমিটিক) বলে দাবি করেছেন।
মেয়র জোহরান মমদানি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উপযুক্ত স্থান হলো হেগ-এ (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে)।"
তিনি আরও বলেন, "তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ এনেছে। গত কয়েক বছরে তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন মতামত তৈরি হয়েছে।"
অবশ্য পরবর্তীতে মামদানি স্পষ্ট করেন যে, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির নেই, তবে তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাঁকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, "বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে কোনো অবস্থাতেই, কোনোভাবেই গ্রেপ্তার হবেন না।"
ট্রাম্প দাবি করেন, "তিনি (নেতানিয়াহু) ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, যারা সম্প্রতি ৫২,০০০ নির্দোষ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং গত ৪৭ বছর ধরে আমেরিকান সৈন্য ও অন্যদের হত্যা করে আসছে।"
তিনি আরও বলেন, "কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা উচিত যারা ইরানকে মৃত্যু ও ধ্বংসের এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে—যা বহু বছর আগেই আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সমাধান করা উচিত ছিল!"
