যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ ২০ জুলাই
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে আগামী ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
ইতোমধ্যে মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছেন।
একাধিক শরীক দলের নেতারা জানিয়েছেন, বৈঠকের বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে শুনেছেন তারা, তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি বা দাওয়াত পাননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের যেসব শরিক দল থেকে ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের এ নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি বা সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাননি তাদের ডাকা হবে। তাদের রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা গুরুত্ব পাবে।
সূত্রগুলো বলছে, যুগপৎ আন্দোলন ও নির্বাচনের আগে শরিক দলগুলোর কাছে দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই অসন্তোষ তৈরি হয়। মিত্রদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও শরিক নেতারা অভিযোগ করে আসছেন।
মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন নিরসনে এবার সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, নৈশভোজে অংশ নেওয়া শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন তিনি।
বৈঠকে শরিকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় এবং সরকারে অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
বিএনপির মিত্র দলগুলোর একাধিক নেতা জানান, শরিকদের অসন্তোষের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হলেন সাইফুল হক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'দীর্ঘদিন যাবত বলা হচ্ছে শরিকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে আবার শুনছি, শিগগিরই বৈঠক হতে পারে।'
তিনি বলেন, 'আমরা সরকারের বক্তব্য শুনতে চাই। সরকার তাদের রাজনৈতিক যাত্রাপথ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কী বলতে চায়, সেটি জানব। এরপর সুযোগ থাকলে গত পাঁচ-ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব।'
তিনি আরও বলেন, 'কোথায় ইতিবাচক কাজ হয়েছে, কোথায় দুর্বলতা বা ঘাটতি রয়েছে এবং কোন বিষয়গুলোতে আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন— সুযোগ থাকলে সেগুলো খোলামেলাভাবে আলোচনা করতে চাই।'
সরকার আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক এখানেই শেষ করতে চায়, নাকি ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক ও সমন্বয় অব্যাহত রাখতে চায়— সেটিও ওই বৈঠকে পরিষ্কার হবে বলে জানান সাইফুল হক।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, 'তারেক সাহেবের আমাদের সঙ্গে বসার কথা শুনেছি। তবে অফিশিয়ালি এখনও দিন-তারিখ জানানো হয়নি।'
