টানা বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে কাপ্তাই হ্রদে, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫ ইউনিট চালু
গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবকটি ইউনিট ফের চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যমতে, বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা ছিল ৮৪.৬০ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রতিষ্ঠাকালীন পূর্বাভাস রুল কার্ভ অনুযায়ী, বছরের এই সময়ে পানির উচ্চতা ৮৫.০১ এমএসএল থাকার কথা। অর্থাৎ প্রায় রুল কার্ভের কাছাকাছি পানি রয়েছে। গত তিন দিনের বৃষ্টিতে ৫ এমএসএল পানি বেড়েছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, কেন্দ্রের মোট ৫টি ইউনিটের সবকটিতেই বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং মোট উৎপাদন ১৫০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর ইউনিটে ৩৫ মেগাওয়াট, ২ নম্বর ইউনিটে ৩৪ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিটে ২৫ মেগাওয়াট, ৪ নম্বর ইউনিটে ২৮ মেগাওয়াট এবং ৫ নম্বর ইউনিটে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত এপ্রিল মাস থেকে হ্রদে পানিস্বল্পতার কারণে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তীব্র পানি সংকটের কারণে দীর্ঘ ৩ মাস ধরে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট একসঙ্গে চালু রাখা সম্ভব হয়নি। সে সময় বাধ্য হয়ে রেশনিং পদ্ধতিতে কিছু ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তথ্যমতে, লেকে পানির স্তর ৬৮ থেকে ৬৯ এমএসএলকে বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। পানির লেভেল ৭০ এমএসএলের নিচে নেমে গেলে উৎপাদন সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে যাবে। কাপ্তাই লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রাঙামাটিতে অবস্থিত এই কাপ্তাই লেক ১৯৬২ সালে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের ফলে ৬৫৫ বর্গকিলোমিটার ভূমি প্লাবিত হয় এবং প্রায় ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। প্রায় চার হাজার ২৫০ বর্গমাইল ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা অববাহিকা সমৃদ্ধ এই লেকটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জলাধার হিসেবে কাজ করে।
বৃষ্টিপাত ছাড়াও ভারতের লুসাই পাহাড় থেকে আসা ঢলসহ উজানের পানি এই লেকে প্রবাহিত হয়। কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা ১৯০৬ সালে শুরু হয়েছিল এবং ১৯২৩ সালে এর জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়। ১৯৪৬ সালে বর্তমান বাঁধের স্থান থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উজানে বরকল এলাকায় এই কেন্দ্রটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
১৯৫৭ সালে মার্কিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'উটাহ ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেশন'-এর অধীনে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মোট ৩৯ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।
কেন্দ্রটির প্রথম দুটি ইউনিটের প্রতিটির ক্ষমতা ৪০ মেগাওয়াট করে স্থাপন করা হয়েছিল, যদিও সেগুলো ৪৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। বাকি তিনটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট।
