চট্টগ্রামে ফিশিং ভেসেলে বিস্ফোরণ: ঢাকায় নেওয়ার পথে দগ্ধ ২ নাবিকের মৃত্যু, প্রকৌশলী সংকটাপন্ন
চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা একটি মাছ ধরার ট্রলারে (ফিশিং ভেসেল) বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ দুই নাবিক মারা গেছেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে জাহাজটির ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন- ফিশিং ভেসেলটির গ্রিজার (ইঞ্জিন বিভাগের কারিগরি কর্মী) মো. রুবেল (৩২) ও শাহ আলম (৪০)। এছাড়া শতভাগ দগ্ধ হওয়ায় আশিকুজ্জামান তামিমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ জানান, গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রুবেল ও শাহ আলম পথেই মারা যান।
তিনি আরও জানান, রুবেলের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়। বুধবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে সেখানে তাকে দাফন করা হয়েছে। অন্যদিকে, শাহ আলমের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। আজ সকাল ৮টায় জানাজা শেষে তাকেও দাফন করা হয়েছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা 'এফভি দেশ' নামের একটি ফিশিং ভেসেলে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। এতে ওই জাহাজের ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম, নাবিক রুবেল ও শাহ আলম এবং পাশে নোঙর করা এফভি ডিজনি-এর নাবিক নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদ দগ্ধ হন।
দুর্ঘটনার পর ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে শতভাগ দগ্ধ আশিকুজ্জামান, রুবেল ও শাহ আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে পথে রুবেল ও শাহ আলম মারা যান।
ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, আশিকুজ্জামান তামিম তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ এস খালেদ জানান, তুলনামূলক কম দগ্ধ হওয়ায় চিকিৎসা শেষে বুধবার সকালে নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাবিক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) জানান, দুপুর ১টার দিকে তারা জাহাজে বসে মাছ ধরার জাল গোছাচ্ছিলেন। এ সময় পাশের এফভি দেশ-এ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুনের শিখা ও তীব্র তাপ তাদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ে। চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে যায় এবং আগুনের তাপে তাদের মাথার চুল পর্যন্ত পুড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি দগ্ধ ব্যক্তিরা বিস্ফোরণের সময় ইঞ্জিন কক্ষে কাজ করছিলেন। সেখানে ইঞ্জিন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল।
