গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপ্পে
এবার আপনার পালা, লিওনেল। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বশেষ বড় জয়ের পর ফুটবলপ্রেমীরা মনে করছেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন লিওনেল মেসিকে এ কথাই বলছেন।
টুর্নামেন্ট নকআউট পর্বে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইও ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এই লড়াইয়ের শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। নকআউট পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসির সঙ্গেই শীর্ষেই রয়েছেন এমবাপ্পে। এবারের বিশ্বকাপে তাদের দুজনেরই গোল সংখ্যা এখন ৬।
তাদের ঠিক পেছনেই রয়েছেন নরওয়ের এরলিং হাল্যান্ড এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
টুর্নামেন্টজুড়ে তারকারা নিজেদের সেরাটা দেখিয়ে চললেও সবচেয়ে বেশি আলো ছড়াচ্ছেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন তিনি। পেনাল্টি মিস করেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এরপর জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও গোলের দেখা পান তিনি।
অন্যদিকে ইউরোপের দুই শীর্ষ গোলদাতা এমবাপ্পে ও হালান্ডও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে হেড থেকে গোল করে গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। আর নরওয়ের বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন হ্যাটট্রিক করে 'গোল্ডেন বুট' লড়াইয়ে জোরালোভাবে নিজের নাম লিখিয়েছেন ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শেষে সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলোয়াড় 'গোল্ডেন বুট' পুরস্কার জিতবেন। একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করলে প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া হবে কার গোলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট) বেশি। সেখানেও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে থেকে গোল ও গোলে সহায়তার কৃতিত্ব অর্জনকারী খেলোয়াড় বিজয়ী হবেন।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আটটি গোল করে 'গোল্ডেন বুট' জিতেছিলেন এমবাপ্পে। এবার তিনি দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলছেন। একইভাবে ২০১৮ সালের 'গোল্ডেন বুট'জয়ী ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন এবং ২০১৪ সালের সর্বোচ্চ গোলদাতা কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেসও দ্বিতীয়বারের মতো এই কীর্তি গড়ার চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ই একাধিকবার 'গোল্ডেন বুট' জিততে পারেননি।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি। তার গোলসংখ্যা ৬। এরপরই রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার গোল ৪টি এবং গোলে সহায়তা ২টি। চার গোল ও একটি করে গোলে সহায়তা নিয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন উসমান দেম্বেলে ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র। চার গোল নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন এরলিং হাল্যান্ড।
তিন গোল করে পরের সারিতে রয়েছেন জার্মানির ডেনিজ উনদাভ, সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি, সেনেগালের ইসমাইলা সার, নেদারল্যান্ডসের কোডি গাকপো, কানাডার জনাথন ডেভিড, মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি, ব্রাজিলের মাতেউস কুনিয়া, নেদারল্যান্ডসের ব্রায়ান ব্রব্বি, নিউজিল্যান্ডের এলাইজা জাস্ট, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ইয়োয়ানে উইসা এবং জার্মানির কাই হাভার্টজ।
এদিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের তালিকায়ও শীর্ষে রয়েছেন মেসি। তার গোল ১৯টি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমবাপ্পের গোল ১৮টি। এরপর রয়েছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসে (১৬), ব্রাজিলের রোনালদো (১৫) এবং পশ্চিম জার্মানির গের্ড ম্যুলার (১৪)।
