স্টিফেন কিংয়ের ‘দ্য স্ট্যান্ড’-এর অনুমোদিত অনুবাদের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবনে হয়ে গেল বিবলিওফাইল প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত স্টিফেন কিংয়ের 'দ্য স্ট্যান্ড'-এর বইয়ের অনুমোদিত অনুবাদের প্রকাশনা উৎসব। এই আইকনিক পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক উপন্যাস বইটি অনুবাদ করেছেন মো. ফুয়াদ আল ফিদাহ।
কবি ফারহান আবীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে লেখক স্টিফেন কিং ও অনুবাদক মো. ফুয়াদ আল ফিদাহর বিভিন্ন কাজ নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক ও বুক ইনফ্লুয়েন্সাররা।
'দ্য স্ট্যান্ড' সম্পর্কে অনুবাদক ফুয়াদ বলেন, ১৯৭৮ সালে প্রকাশের সময় প্রকাশকরা প্রিন্টিং খরচ কমাতে কিংকে উপন্যাসের একটি বড় অংশ ছেঁটে ফেলতে বাধ্য করেছিলেন। কিং বাধ্য হয়ে প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠা বাদ দিয়েছিলেন। পরে ১৯৯০ সালে বইটির প্রায় ১ হাজার ২০০ পৃষ্ঠার 'আনকাট' ও সম্পূর্ণ সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তিনি সেই পূর্ণাঙ্গ সংস্করণটিই অনুবাদ করেছেন বলে জানান ফুয়াদ।
'দ্য স্ট্যান্ড' অত্যন্ত বাস্তবসম্মত উপন্যাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বইয়ে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সমাজের ভেঙে পড়া, সরকারি অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের চিত্র যেভাবে ফুটে উঠেছে, তা পাঠকদের বাস্তব জীবনের মহামারির কথা মনে করিয়ে দেয়।
ফুয়াদ আরও বলেন, 'অনুমোদিত অনুবাদের যে যাত্রা বিবলিওফাইলের হাত ধরে চলছে, তা এই দ্য স্ট্যান্ডের মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ হলো।'
ফুয়াদের অনুবাদের প্রশংসা করে বুক ইনফ্লুয়েন্সার লিঙ্কন হাসান বলেন, 'তিনি এই বইয়ের প্রতি সুবিচার করেছেন বলেই আমার বিশ্বাস।'
লেখক-অনুবাদক খালেদ নকীব অনুবাদক সম্পর্কে বলেন, 'অনুবাদ জগতে মো. ফুয়াদ আল ফিদাহ একজন মহীরুহ। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে ফুয়াদ ভাই একজন চমৎকার সম্পাদক।'
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিবলিওফাইলের প্রকাশক মো. সাব্বির হোসেন, অন্যধারার প্রকাশক ফারুক হোসেন, গীতিকবি সাকী আহমদ, কবি মাহবুব জামিল পুলক, বুক ইনফ্লুয়েন্সার ব্রাউন স্টোরি টেলার (এস এম সোলায়মান), মাসুম আহমেদ আদি, লেখক নিয়াজ মাওলা, বাপ্পি খান, শোয়েব সর্বনাম, মিলু আমান, রাফসান রেজা রিয়াদ, প্রচ্ছদ শিল্পী সুলতান আজম সজল, রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ানসহ আরও অনেকে।
কাহিনি সংক্ষেপ:
প্রলয়ের শিকার পৃথিবীতে প্লেগ এবং শুভ-অশুভের দ্বন্দ্ব নিয়ে স্টিফেন কিং যে আখ্যানটি লিখেছেন, তা আজও ততটাই আকর্ষণীয়...এবং বাস্তব, যতটা সেই প্রথম প্রকাশের সময় ছিল।
জৈব-গবেষণাগার থেকে পালিয়ে গেল এক কর্মী, জানে না: সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে প্রাণঘাতী এক অস্ত্র:...সুপার-ফ্লুর এমন এক স্ট্রেইন যা পৃথিবীর বুক থেকে নিরানব্বই শতাংশ মানুষকে মুছে ফেলবে...সেটাও মাত্র কয়েক হপ্তার মাঝে!
যারা বেঁচে গেল, তারা আতঙ্কিত আর বিভ্রান্ত; বেঁচে থাকার তাগিদেই তাদের একজন নেতা দরকার।
দৃশ্যপটে আগমন হলো দুজনের: মাদার অ্যাবিগেইল, ১০৮-বছর-বয়সি দয়ালু নারী যিনি কলোরাডোর বোল্ডারে একটা শান্তিপূর্ণ বসতি গড়ে তোলার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। আর অন্যজন: র্যান্ডাল ফ্ল্যাগ, কুখ্যাত কালো-মানুষ, যে আনন্দ খুঁজে পায় শুধুই বিশৃঙ্খলা এবং নৃশংসতার মাঝে। কালো-মানুষ এবং দয়ালু নারী, উভয়েই দল ভারী করতে থাকেন।
বেঁচে থাকা মানুষদেরকে তাই বেছে নিতে হবে দুজনের মাঝে যেকোনো একজনকে।
যে টিকে থাকবে, সে-ই রচনা করবে মানবজাতির ভবিষ্যৎ।
