খুন, অপহরণ ও তন্ত্রমন্ত্রের রোমাঞ্চ নিয়ে প্রকাশিত হলো ‘দ্য ফোর হর্সমেন প্রজেক্ট’-এর চার বই
গতকাল (১৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবনে হয়ে গেল বিবলিওফাইল প্রকাশনী আয়োজিত দ্য ফোর হর্সমেন প্রজেক্টের চার বইয়ের (নির্বাণ, নিদয় নিরয়, কৃষ্ণ নদীর শহরে, জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে) প্রকাশনা উৎসব।
বইগুলোর লেখক যথাক্রমে অধ্যাপক মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর, তৌফির হাসান উর রাকিব, এস এম নিয়াজ মাওলা ও খালেদ নকীব।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন কবি ফারহান আবীদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিবলিওফাইলের প্রকাশক মো. সাব্বির হোসেন, লেখক-অনুবাদক মো. ফুয়াদ আল ফিদাহ, গীতিকবি সাকী আহমদ, কবি মাহবুব জামিল পুলক, বুক ইনফ্লুয়েন্সার লিঙ্কন, ব্রাউন স্টোরি টেলার, কেয়া, ঈশান, মাসুম আহমেদ আদি, লেখক নাবিল মুহতাসিম, বাপ্পি খান, অনুবাদক সালমান হক-সহ আরও অনেকে।
সাব্বির হোসেন বলেন, "মেলার বাইরে মৌলিক বই নিয়ে কাজ করার আর বুক ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে বিবলিওফাইলের একটা মিথস্ক্রিয়া তৈরির জন্যই এই আয়োজন।"
এস এম নিয়াজ মাওলা বলেন, "প্রথম দুই প্রয়াস ব্যর্থ হবার পর তৃতীয়বারে গিয়ে সফল হলাম প্রথমবারের মতো থ্রিলার লেখায়। এখন পাঠকের প্রতিক্রিয়ার আশায় রইলাম।"
তৌফির হাসান উর রাকিব বলেন,"লেখক-প্রকাশকের পাশাপাশি যদি বুকশপ, বইয়ের গ্রুপ, ইনফ্লুয়েন্সাররাও বই নিয়ে নিয়োমিত কথা বলেন, তাহলে তা নতুন পাঠক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।"
খালেদ নকীব বলেন, "তার জীবনের কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে উপন্যাসে।"
দ্য ফোর হর্সমেন প্রজেক্টের চার বইয়ের মধ্যে নির্বাণ ও নিদয় নিরয় মূলত অতিপ্রাকৃত জনরার। জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে ও কৃষ্ণ নদীর শহরে থ্রিলার ঘরানার।
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে:
অপহৃত হলো এক তরুণী—অগ্নিজিতা। ওকে উদ্ধারে অনেক যুগ পর আবারও বেরিয়ে এলো নরকের পিশাচরা। রণক্ষেত্রে হাজির হলো রহস্যময় কিছু চরিত্র—দজ্জাল, মোমিন বান্দা, সিরাজ সাঁই, লালন, জল্লাদ।
বোনকে উদ্ধারে যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়েছে মেসায়াহও, সেই সাথে খুঁজছে বাবার ট্রেইল। স্মৃতির ক্যানভাস থেকে তাকে উদ্ধার করতে বদ্ধপরিকর স্কুল না পেরোনো মেয়েটা।
এদিকে স্মৃতির শহরে বহুদিন পর হাজির হলো সন্ন্যাসী। জড়িয়ে পড়ল অগ্নিজিতাকে উদ্ধারের কাজে। কেন? কী সম্পর্ক ওর মেয়েটার সাথে? কেন ওকে অপরাধ জগতের মুকুটহীন সম্রাট বলা হয়? কেন লোকে ওকে আধা-সাধু, আধা-পিশাচ ডাকে?
ভ্রান্তির ছলনে থেকে কি মুক্তি মিলবে ক্যারোলিন ম্যারিনের?
এই সবের উত্তর মিলবে জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে উপন্যাসে।
নিদয় নিরয়:
পাণ্ডববর্জিত পাহাড়ি গ্রাম বালুশিয়ায় চাকরি করতে গিয়ে এক অদ্ভুত ভয়ের চাদরে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়লেন—সদানন্দ এবং মৃণালিনী।
এই আতঙ্কের সঙ্গে কী সম্পর্ক নীলকরদের এক লুপ্তপ্রায় প্রাণঘাতী তান্ত্রিক ক্রিয়ার?
রহস্যময় মাঝি, মরণচাঁদের আসল পরিচয়টাই বা কী?
প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর, হাবিব আবসার কি আদৌ এই রহস্যের মায়াজাল ভেদ করতে পারবেন?
নাকি এই ত্রাসের রাজত্বে তার বন্দি হওয়াও কেবল সময়ের ব্যাপার?
নির্বাণ:
আহমেদ বাওয়ানী স্কুলের মাস্টার—পঞ্চানন পাল। মাকে দেখতে যাওয়ার পথে বাসের ভেতর পঞ্চাননের পরিচয় হলো শিশুনাগ সেন্নামতের সাথে। অত্যন্ত তীক্ষ্ণ সিক্সথ সেন্সের অধিকারী এই প্রৌঢ় এক রহস্যময় চরিত্র। ইনি খুঁজে ফিরছেন পরমানন্দ লাভের গুহ্যতত্ত্ব। পরমানন্দ হলো সব ধরনের জাগতিক-মহাজাগতিক সুখের চূড়ান্ত রূপ, যা কখনও শেষ হয় না। জিনিস যত মহার্ঘ, মূল্যও তত বেশি! পাকেচক্রে এসবের সাথে সস্ত্রীক জড়িয়ে গেলো ছাপোষা মাস্টার পঞ্চানন। শেষমেশ শিশুনাগ আদৌ কী খুঁজে পেলো সেই গোপন বিদ্যে? এই "ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে পরশ পাথর"-এর যাত্রায় শেষমেশ কাকে, কী মূল্য চোকাতে হলো? কোথায় শুরু এই কাহিনির? আর কেনই বা তা শুরু হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে শুরু থেকে শেষ অব্দি পড়তে হবে এই উপন্যাস—নির্বাণ।
কৃষ্ণ নদীর শহরে:
সদরঘাটে এক রাতে খুন হলো একজন সাংবাদিক।
দৃশ্যটা অদ্ভুত রকম গোছানো—মোবাইল পড়ে আছে, পড়ে আছে শেলও। এমন ভুল সাধারণত কেউ করে না।
পুলিশ অফিসার রাশেদের প্রথম সন্দেহ এখানেই—
এ স্রেফ খুন নয়, ভেবেচিন্তে করা কাজ।
ঢাকার অভ্যন্তরে তখন ধীরে ধীরে ভেসে ওঠে একটা নাম—কাউন্সিল। কেউ সরাসরি বলে না। কিন্তু সবাই জানে—ওরা আছে।
রাশেদ যত এগোয়, ততই বোঝে—এই শহরে সব প্রশ্নের উত্তর চাইতে নেই। আর ঠিক তখনই তার পাশে এসে দাঁড়ায় নাফিসা। মেয়েটা তথ্য জানে বেশি,
আর ভয় পায় কম।
আড়ালে একজন মানুষ আছেন, যিনি দিনে দান করেন, রাতে হিসেব মেলান।
কেউ পড়ে যায়।
কেউ দাঁড়িয়ে থাকে।
আর শহরটা নিজের মতো করেই চলতে থাকে।
এই গল্প খুনি খোঁজার নয়।
এই গল্প এটা বোঝার—কখন, কোথায়, আর কার স্বার্থে একটা খুন দরকার হয়ে পড়ে।
