‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ তকমা দেওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করল আলিবাবা
চীনের ই-কমার্স কোম্পানি আলিবাবাকে 'চীনা সামরিক কোম্পানি' হিসেবে আখ্যা দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে রিটেইল প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া এক আবেদনে আলিবাবা ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং যুক্তি দিয়েছে যে, ই-কমার্স জায়ান্টটির সঙ্গে চীনের সামরিক বাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই।
মামলায় কোম্পানিটি বলেছে, 'এই সিদ্ধান্তগুলোর পক্ষে কোনো বাস্তবভিত্তিক বা আইনি ভিত্তি নেই।'
তারা আরও বলেছে, 'আলিবাবা একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং তাদের কোনো সদস্যের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।'
কোম্পানিটি বলে, 'আমাদের পণ্য ও সেবাগুলো খুচরা বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে—অস্ত্র, প্রতিরক্ষা বা গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য নয়।'
মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান হোসেতে অবস্থিত একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে। এতে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে কালোতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান তালিকা থেকে আলিবাবার নাম অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
গত ৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র আলিবাবাকে চীনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে বলে সন্দেহভাজন কোম্পানিগুলোর তালিকায় যুক্ত করে। একই সঙ্গে চীনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, যেমন বিওয়াইডি ও বাইদুকেও ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সে সময় আলিবাবা সতর্ক করে জানিয়েছিল যে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে।
তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বলেন, 'আলিবাবা কোনো চীনা সামরিক কোম্পানি নয় এবং এটি কোনো সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলের অংশও নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভুল ধারণা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই তালিকাভুক্তিকে 'বৈষম্যমূলক' বলে সমালোচনা করেছে।
দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, 'বিদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী চীনা কোম্পানিগুলো তাদের স্বাগতিক দেশগুলোর আইন ও বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলে।'
তিনি আরও বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের এই ভুল চর্চা বন্ধ করা এবং চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি ন্যায্য, সুবিচারপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করা।'
যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রযুক্তি খাতের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে 'চীনা সামরিক কোম্পানি' হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা সম্প্রসারণ করেছে। ২০২৫ সালে যেখানে এ তালিকায় ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান ছিল, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে ১৮৮টিতে পৌঁছেছে।
এই তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৩০ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরকে কোনো 'পণ্য, সেবা বা প্রযুক্তি' সরবরাহ করতে পারবে না।
এ ছাড়া ২০২৭ সাল থেকে পেন্টাগনের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে 'পণ্য ও সেবা ক্রয়ের' ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে, এমনকি যদি সেগুলো কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় তবুও।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চুক্তিগুলো সাধারণত প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত হয়, কারণ এগুলো লাভজনক বাণিজ্যিক সুযোগ এনে দেয়।
এক বিবৃতিতে পেন্টাগন অভিযোগ করেছে যে, আলিবাবা 'চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিতে সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কর্মসূচির অবদানকারী', কারণ প্রতিষ্ঠানটি চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
পেন্টাগনের বক্তব্যে ব্যবহৃত 'এমআইআইটি' সংক্ষিপ্ত রূপটি চীনের 'শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়'-কে নির্দেশ করে।
