মোবাইলের সিম কার্ডে কর বাতিলের প্রস্তাব
দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে সিম কার্ডের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশের আগে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে টেলিযোগাযোগ খাতের সামগ্রিক করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ বলে ধারণা করা হয়। একই সাথে এটি দেশজুড়ে মোবাইল সংযোগের সহজলভ্যতা আরও উন্নত করবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর বিদ্যমান ৩০০ টাকা শুল্ক (লেভি) পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, এটি মোবাইল গ্রাহকদের প্রারম্ভিক সংযোগ খরচ এবং ব্যবহারের ব্যয় কমিয়ে দেবে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য—যাদের কাছে মোবাইল সেবার ব্যয়ভার বহন করা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজস্বর ওপর বড় ধরণের প্রভাব পড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই কর প্রত্যাহারের ফলে আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা কমতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্বের সাময়িক ক্ষতি সত্ত্বেও এই নীতিগত পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে সম্প্রসারিত করা। মোবাইল সেবার প্রসারের হার বৃদ্ধি, ডেটা ব্যবহারের আধিক্য এবং আইসিটি-চালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স বেস আরও বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।
বর্তমানে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাত অন্যতম উচ্চ করের বোঝার ভার বহন করছে, যেখানে কার্যকর করের হার প্রায় ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে আইসিটি খাতে প্রায় ২৫ শতাংশ কর আরোপ রয়েছে। এই উভয় হারই সমপর্যায়ের অন্যান্য অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান বলেন, 'টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোকে আমরা স্বাগত জানাই। বিশেষ করে এই খাতকে 'জাতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে কর কমানোর বিষয়টি প্রশংসনীয়। এই পদক্ষেপগুলো ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করতে, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপিতে আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের শক্তিশালী ডিজিটাল আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। কানেক্টিভিটি এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সবার জন্য উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে এবং এই অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে বাংলালিংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
টেলিযোগাযোগ খাতের অংশীজনরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, এই খাতের সেবার ওপর উচ্চ করভার এর ব্যবহারের প্রবৃদ্ধিকে নিরুৎসাহিত করে এবং ডিজিটাল বিস্তারকে সীমিত করে দেয়। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এটি হচ্ছে যখন মোবাইল সংযোগের সাথে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষা এবং ই-গভর্নেন্স সেবাগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এই নতুন নীতি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এটি দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের ইতিহাসে কর যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
