বছরের প্রথম ছবি হিসেবে ১০০ কোটি ডলার আয় করল এই ভিডিও গেম অ্যাডাপ্টেশন
ইউনিভার্সাল পিকচার্স, ইলুমিনেশন ও নিনটেনডোর যৌথ বাজি ছিল 'দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি'। ক্রিস প্র্যাটের কণ্ঠ দেওয়া মারিও আর আনিয়া টেইলর-জয়ের প্রিন্সেস পিচ এবার বেরিয়েছে এক নতুন অ্যাডভেঞ্চারে। আর সেই বাজিতেই মিলল অবিশ্বাস্য সাফল্য। সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে এই অ্যানিমেটেড ছবিটির পারফরম্যান্স চোখ কপালে তোলার মতো।
১০০ কোটির ক্লাবে সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি
দ্য হলিউড রিপোর্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ছবিটি ইতিমধ্যেই ১০০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ২৮০ কোটি টাকা) ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেছে।
২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া আর কোনো ছবি এখন পর্যন্ত এই কীর্তি গড়তে পারেনি। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া বক্স অফিসেই 'দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি'র আয় দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।
আর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সিনেমাটি পকেটে পুরেছে আরও ৫৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার।
শুধু তা-ই নয়, সর্বকালের সবচেয়ে সফল ভিডিও গেম অ্যাডাপ্টেশনের তালিকায় এটি এখন দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে রয়েছে এই সিরিজেরই আগের ছবি, ২০২৩ সালের 'দ্য সুপার মারিও ব্রাদার্স মুভি'। সেটির বিশ্বব্যাপী মোট আয় ছিল ১৩৬ কোটি ডলার।
সবচেয়ে বেশি আয় করা অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজের তালিকায় ৯ নম্বরে সুপার মারিও
হলিউডের অন্যতম লাভজনক অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজ হিসেবে এখন নিজের আসন পাকা করে নিল সুপার মারিও। সিরিজের মাত্র দুটি ছবি মিলেই বিশ্বজুড়ে ২৩০ কোটি ডলারের টিকিট বিক্রি করেছে। আর তাতেই দুনিয়ার নবম সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজের তকমা জুটে গেছে মারিওর কপালে।
সংবাদমাধ্যম ডেডলাইন-এর তথ্যমতে, আয়ের দিক থেকে এখনো সবার ওপরে রাজত্ব করছে 'ডেসপিকেবল মি' ফ্র্যাঞ্চাইজ। ছয়টি ছবি মিলিয়ে এ সিরিজের ঝুলিতে রয়েছে ৫৬৪ কোটি ডলার।
আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে 'শ্রেক'। এ ফ্র্যাঞ্চাইজের ছয়টি ছবি থেকে আয় ৩৯৮ কোটি ডলার।
পাঁচটি ছবি নিয়ে ৩২৮ কোটি ডলার কামিয়ে আয়ের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে আছে 'টয় স্টোরি'। আর চতুর্থ স্থানে থাকা 'আইস এজ'-এর আয় পাঁচটি ছবি থেকে ৩২২ কোটি ডলার।
তালিকার পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে—'জুটোপিয়া' (২৮৯ কোটি ডলার, দুটি ছবি), 'ফ্রোজেন' (২৭৩ কোটি ডলার, দুটি ছবি), 'ইনসাইড আউট' (২৫৬ কোটি ডলার, দুটি ছবি), 'কুং ফু পান্ডা' (২৩৭ কোটি ডলার, চারটি ছবি) ও 'সুপার মারিও' (২৩০ কোটি ডলার, দুটি ছবি)। আর দশম স্থানটি ধরে রেখেছে 'মাদাগাস্কার' (২২৬ কোটি ডলার, সাতটি ছবি)।
এদিকে লায়ন্সগেট ও ইউনিভার্সালের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক 'মাইকেল'ও ১০০ কোটির ক্লাবের দিকে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বজুড়ে ছবিটির বর্তমান আয় ৮৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
কী আছে 'দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি'তে?
ইউনিভার্সাল পিকচার্স, অ্যানিমেশন স্টুডিও ইলুমিনেশন এবং নিনটেনডো যৌথভাবে এই ছবিটি নির্মাণ করেছে। গল্পে মারিও আর সঙ্গী লুইজি, ইয়োশি, বাউজার ও প্রিন্সেস পিচকে দেখা যায় এক মহাজাগতিক অভিযানে। লক্ষ্য, পরাক্রমশালী বাউজার (জ্যাক ব্ল্যাক) ও তার ছেলে বাউজার জুনিয়রের (বেনি স্যাফডি) হাত থেকে প্রিন্সেস রোজালিনাকে (ব্রি লারসন) উদ্ধার করা।
মারিওর গলায় কণ্ঠ দিয়েছেন ক্রিস প্র্যাট, আর প্রিন্সেস পিচ হয়ে ফিরেছেন আনিয়া টেইলর-জয়। এছাড়াও ভয়েস কাস্টে ফক্স ম্যাকক্লাউড চরিত্রে গ্লেন পাওয়েল ও ইয়োশি চরিত্রে ডোনাল্ড গ্লোভারের মতো তারকারা রয়েছেন।
আগের পর্বের মতোই এই ছবিটিরও মূল অনুপ্রেরণা নিনটেনডোর আইকনিক ভিডিও গেম ফ্র্যাঞ্চাইজ 'মারিও'।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যারন হরভাথ ও মাইকেল জেলেনিক, চিত্রনাট্য লিখেছেন ম্যাথিউ ফোগেল।
