নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
রাজধানীর মিরপুরে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে 'পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন' অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সরকার। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এই তথ্য জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত নুরজাহান বেগমের ছেলে যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা বিষয়টি দেখব। পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ-সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। সেটি কার্যকর থাকলে আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব। আইন অনুযায়ী যা করণীয়, তা করা হবে। আমি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি দেখতে বলেছি।'
এর আগে গত রোববার (৩১ মে) রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার এক ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক।
নুরজাহান বেগমের গলিত মরদেহ উদ্ধারের পর সন্তানদের পক্ষ থেকে মাকে অবহেলার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা তথা যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে বলা আছে, 'প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন। পিতা ও মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন। আইন না মানলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বা অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।'
তবে আইনের ৭(২) ধারায় উল্লেখ আছে, 'কোনো আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে গ্রহণ করিবে না।'
