নন-আরএমজি খাতে আসতে পারে ‘ফ্রি অব কস্ট’ কাঁচামাল আমদানি ও ৩ বছরের বন্ড লাইসেন্স সুবিধা
রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে আগামী বাজেটে নন-আরএমজি খাতের জন্য বেশ কিছু সুবিধার ঘোষণা আসতে পারে।
এর অংশ হিসেবে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট অফিসের পরিবর্তে কাঁচামালের এনটাইটেলমেন্ট বা প্রাপ্যতার ঘোষণা—যা ইউটিলিটি ডিক্লারেশন (ইউডি) নামে পরিচিত—সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোর হাতে দেওয়া হতে পারে। প্রাথমিকভাবে টেরি টাওয়েল ও হোম টেক্সটাইল রপ্তানিকারকদের সংগঠন এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠন এ সুবিধা পেতে পারে।
এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সদস্যদের ইউডি নিতে আর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট অফিসে যেতে হবে না। বরং তারা নিজ নিজ অ্যাসোসিয়েশন থেকে ইউডি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন। এতে হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারকেরা ক্রেতার কাছ থেকে ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির যে সুবিধা পান, একই সুবিধা নন-আরএমজি খাতের উদ্যোক্তাদেরও দেওয়া হতে পারে।
পাশাপাশি এসব রপ্তানিকারকের বন্ড লাইসেন্সের মেয়াদও আরএমজি খাতের মতো তিন বছর করার ঘোষণা আসতে পারে।
মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এক সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে কিছু বিষয়ে আগামী বাজেট প্রস্তাবে ঘোষণা আসতে পারে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টার অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "সরকারের ইচ্ছা ইউডি প্রদানের ক্ষমতা আরও বেশি সংখ্যক অ্যাসোসিয়েশনের হাতে ছেড়ে দেওয়া। অর্থাৎ যোগ্য ও সক্ষম সংগঠনগুলো যেন এ সুবিধা পায়। তবে প্রাথমিকভাবে সক্ষমতা বিবেচনায় টেরি টাওয়েল অ্যাসোসিয়েশন এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠনকে এ সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।"
নন-আরএমজি খাতকে এফওসি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ইমপোর্ট পলিসি অর্ডারে (আইপিও) সংশোধন আনতে হবে, যা মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে করতে হবে।"
এ বিষয়ে জানতে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের একটি অংশ বন্ড লাইসেন্স সুবিধা পেলেও কাঁচামাল আমদানির জন্য অনুমতি বা ইউটিলিটি পারমিশন (ইউপি) নিতে হয় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট অফিস থেকে।
এ কারণে প্রতি ইউপির জন্য অতিরিক্ত খরচ বা ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্ড লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রেও হয়রানি ও ঘুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
এ প্রেক্ষাপটে কয়েক বছর আগে তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর হাতে ইউডি ইস্যুর ক্ষমতা দেওয়া হয়। এরপর থেকে অন্যান্য সংগঠনও একই সুবিধার দাবি জানিয়ে আসছে।
নন-আরএমজি খাতের উদ্যোক্তারা মনে করেন, নতুন করে সংগঠনগুলোকে এ সুবিধা দেওয়া হলে হয়রানি কমবে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএলএমইএ) সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমাদের সংগঠনকে সদস্যদের জন্য ইউডি ইস্যুর ক্ষমতা দেওয়া হলে হয়রানি কমবে এবং অতিরিক্ত যে খরচ করতে হতো, সেটিও কমে যাবে।"
তিনি বলেন, "এ সিদ্ধান্ত ব্যবসা সহজ করা এবং খরচ কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এ দাবি জানিয়ে আসছিলাম।"
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল খাত মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে।
বিটিটিএলএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ১৪৭। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি কারখানা সরাসরি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত।
এম শাহাদাত হোসেন বলেন, ইউডি প্রাপ্তি সহজ হলে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং এ খাতে নতুন বিনিয়োগও আসবে।
