ভারত থেকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল না করতে অর্থ উপদেষ্টাকে চিঠি
ভারত থেকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল না করতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে চিঠি দিয়েছে পোশাকখাতের উদ্যোক্তাদের শীর্ষ দুই সংগঠন– বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ।
বিজিএমইএ'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান এবং বিকেএমইএ'র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত ওই যৌথ চিঠিতে বলা হয়, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় ১০-৩০ কাউন্ট কটন ইয়ার্ন আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবকে অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্প, সংশ্লিষ্ট ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর মারাত্মক ও বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দেশের অর্থনীতিতে পোশাকখাতের গুরুত্ব তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়, রপ্তানিমুখী আরএমজিখাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করে এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখ লাখ মানুষের জীবিকানির্ভর করে। এই খাতের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত সুতা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা– ডব্লিউটিও-সম্মত বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার আওতায় আমদানির সুযোগ পেয়ে এসেছে, যা বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার একটি মৌলিক ভিত্তি।
এই বিষয়ে উদ্বেগের কিছু জায়গা চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে বিজিএমইএ। এবিষয়ে প্রয়োজন হলে সংগঠনটি জরুরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ সোমবার পোশাক রপ্তানিকারকদের সংঠন দুটি এক সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে আমরা আমাদের শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।
এই সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "একটি ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে গিয়ে দুটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।"
অবশ্য কি ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন সে বিষয়ে পরিষ্কার কিছু জানাননি পোশাকখাতের ব্যবসায়ী নেতারা।
প্রসঙ্গত, দেশের সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলোকে বাঁচানোর স্বার্থে সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়ন হলে সুতা আমদানিতে বাড়তি প্রায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। এর ফলে আমদানি নিরুৎসাহিত হলে স্থানীয় উৎস থেকে সুতা কিনতে বাধ্য হবেন পোশাক রপ্তানিকারকরা।
তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এর ফলে তাদেরকে প্রতি কেজি সুতায় ৩০ সেন্ট থেকে শুরু করে ৬০ সেন্ট পর্যন্ত বাড়তি দর দিতে হতে পারে, যা তাদের উৎপাদন খরচ বাড়াবে।
বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্প এই ভার বহন করতে পারবে না বলে মনে করছেন এখাতের ব্যবসায়ী নেতারা।
