সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ায় ট্রেজারি বিলের সুদের হার আবার বেড়েছে
টাকার চাহিদা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ে ধীরগতির কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বাড়িয়েছে সরকার। এর ফলে গত এক সপ্তাহে ট্রেজারি বিলের মুনাফার হার হেরেছে, যা স্বল্পমেয়াদি সুদহারের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।
গতকাল অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নিলামের তথ্য অনুযায়ী, ৯১ দিন, ১৮২ দিন ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদের হার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩১ থেকে ৩৩ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। ৯১ দিনের ট্রেজারি বিলের মুনাফার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.১৬ শতাংশ। এছাড়া ১৮২ দিনের ট্রেজারি বিলের ক্ষেত্রে এই হার ১০.৩৩ শতাংশ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের ক্ষেত্রে ১০.৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
এক সপ্তাহ আগে, ৬ এপ্রিল ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মুনাফার হার ছিল ৯.৮৫ শতাংশ, ১৮২ দিনের বিলে ১০.০১ শতাংশ ও ৩৬৪ দিনের বিলে ছিল ১০.০৮ শতাংশ।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মূলত সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ট্রেজারি বিলের সুদের হার বেড়েছে। তিনি টিবিএসকে বলেন, 'সরকারের কোষাগারে অর্থের সংকট রয়েছে। রাজস্ব আদায়ও লক্ষ্যমাত্রার অনেক কম। ফলে সরকার ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।'
নিয়মিত নিলাম ক্যালেন্ডারের বাইরেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মাসে অফ-ক্যালেন্ডার নিলামের আয়োজন করেছে। জরুরি অর্থের প্রয়োজন মেটাতে ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে দুই দফায় মোট ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
ট্রেজারি বিলের মুনাফার হার এর আগে ১১.৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হওয়ায় সরকারি ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, যার প্রভাবে মুনাফার হার আবার বাড়তে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদের হার নির্ধারণ করা হয় ব্যাংকগুলোর কাছে কী পরিমাণে তারল্য রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে। 'সরকারের চাহিদার তুলনায় ব্যাংকগুলোতে তারল্য জোগান বেশি থাকলে সুদের হার কমে। আর চাহিদার তুলনায় তারল্য জোগান কম থাকলে সুদের হার বাড়ে,' বলেন তিনি।
ব্যাংকাররা বলছেন, এখন ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট নেই, তবে সরকারের বেশি ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় সুদহার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।
এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকার ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ৯১ দিন মেয়াদি, ৩৬ হাজার কোটি টাকা ১৮২ দিন মেয়াদি এবং ৩০ হাজার কোটি টাকা ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে নেওয়া হবে।
পাশাপাশি ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে আরও ৩৯ হাজার কোটি টাকার মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রেজারি বিল হলো স্বল্পমেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজ, যার মেয়াদ ৯১ থেকে ৩৬৪ দিন পর্যন্ত। নিরাপদ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবেও ট্রেজারি বিল পরিচিত। কারণ এর ওপর নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।
আর ট্রেজারি বন্ড হলো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঋণপত্র। এর বিপরীতের বিনিয়োগ থেকে সরকার দীর্ঘ সময়ের জন্য অর্থ নিয়ে থাকে। এর মেয়াদ হয় ২ থেকে ২০ বছর।
