ব্যাংকে তারল্য বাড়ায় ১০ শতাংশের নিচে নামল ট্রেজারি বিলের সুদের হার
ব্যাংকে তারল্য প্রবাহ বাড়ার কারণে তিন মেয়াদের ট্রেজারি বিলের সুদের হার পলিসি রেটের নিচে নেমেছে।
আজ সোমবার ৯১, ১৮২ ও ৩৬৫ দিন মেয়াদের ট্রেজারি বিলের সুদের হার ১০ শতাংশের নীচে নেমেছে। তাতে ৯১ দিন মেয়াদের ট্রেজারি বিলের সুদহার ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ; ১৮২ দিনের ট্রেজারি বিলের সুদের হার ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং ৩৬৪ দিনের সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
এক সপ্তাহ আগে ৯১ দিনের ট্রেজারি বিলের সুদের হার দাঁড়ায় ১০ দশমিক ০২ শতাংশ। ১৮২ দিনের ট্রেজারি বিলের সুদের হার নিলামে ছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। আর ৩৬৪ দিনের ট্রেজারি বিলের সুদের হার ছিল ১০ দশমিক ০৭ শতাংশ।
ট্রেজারি বিল এক ধরনের স্বল্পমেয়াদি আর্থিক ঋণপত্র, যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকার বিক্রি করে থাকে। এর মেয়াদ হয় ৯১ থেকে ৩৬৪ দিন পর্যন্ত।
কলমানির রেট চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমেছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম মনে করেন মূলত দুইটি কারণে ট্রেজারি বিলের সুদের হার কমেছে।
তিনি বলেন, "বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রয় করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকে চলে গেছে। তাতে ব্যাংকগুলোর কাছে এখন যথেষ্ট পরিমাণে তারল্য রয়েছে।"
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার অর্থ নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কিনেছে।
এজাজুল ইসলাম বলেন, "দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি কম। এজন্য ব্যাংকগুলোর কাছে এখন সেই পরিমাণ অর্থ রয়েছে।"
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, জানুয়ারি মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ।
এবিষয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ডিএমডি বলেন, মূলত ব্যাংকিং সেক্টরে "ব্যাপক তারল্য" থাকার কারণে ট্রেজারি বিলের সুদহার কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে তারল্য সরবরাহ বেড়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
তাছাড়া ব্যাংকখাতে আগের চেয়ে আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। আমানত আসলে ব্যাংকের তারল্যের অবস্থা উন্নতি হয়। "সেদিক থেকে আমানত ব্যাংকখাতে ইনজেক্ট হওয়ার কারণে, ব্যাংকগুলোর তারল্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে" বলে জানান তিনি।
আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকের ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সরকারের এসময় ধার কম করছে, কারণ এডিপি বাস্তবায়নও ধীরগতিতে রয়েছে।
