সীতাকুণ্ডে শিশু হত্যা: ঘাতক বাবু শেখের পরিচয় লুকিয়ে ৩ বিয়ে, ছিল ধর্ষণের মামলাও
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নিশা ইরা হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত বাবু শেখ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরিনের আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন। এদিকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে এই ঘাতকের ভয়ংকর অপরাধ জীবনের নানা তথ্য।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাবু শেখের প্রকৃত নাম মাহবুব আলম (৪৫)। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকায়। তিনি মৃত হাতেম শেখের ছেলে। পরিচয় গোপন করে তিনি গাইবান্ধা, পাবনা ও চট্টগ্রামে মোট তিনটি বিয়ে করেছেন। এলাকায় মাহবুব নামে পরিচিত হলেও অপরাধে জড়িয়ে এক দশক আগে বাড়ি ছাড়েন তিনি। বর্তমানে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় 'বাবু শেখ' পরিচয়ে বসবাস করতেন।
বাবু শেখের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি, চুরি ও ছিনতাইসহ অন্তত তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালে পাবনায় এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও পরে আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়। পাবনা সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এছাড়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের আরও দুটি মামলা রয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ইরার পরিবার বর্তমানে শোকে স্তব্ধ। ইরার বাবা পেশায় অটোরিকশাচালক মনিরুল ইসলাম জানান, তাদের ঘরে টেলিভিশন না থাকায় ইরা প্রায়ই পাশের বাসায় টিভি দেখতে যেত। এই নিয়ে মাসখানেক আগে বাবু শেখের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয় এবং বাবু শেখ তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনিরুল ইসলাম বলেন, "আমার মেয়েটা কেন তাদের বাসায় যায়—এই বিষয় নিয়ে বাবু শেখের সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। আমার ঘরে একটা টিভি থাকলে হয়তো আজ ইরামণি বেঁচে থাকত।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারের পরও সবার সামনে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করার পর গলা কেটে হত্যা করা হয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের পরিবার পাশাপাশি বসবাস করত এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে টার্গেট করা হয়েছিল। ইরা হত্যার পর থেকে বাবু শেখের তৃতীয় স্ত্রী আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলার তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
