অভিনেত্রী ঝিলিকের মৃত্যু: রিমান্ড শেষে কারাগারে স্বামী
হাসপাতালের বারান্দা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনায় করা মামলায় রিমান্ড শেষে স্বামী সাফি উল্লাহ ওরফে মহব্বতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (১৪ জুন) আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক কাজী আব্দুল মান্নান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবুল বাশার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ঝিলিকের। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক শনিবার ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় সাফি উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আসামির এক দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, সাফি উল্লাহর তীব্র পেটে ব্যথা হলে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সাফি উল্লাহর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। তবে ইবনে সিনা হাসপাতালে সিট/কেবিন খালি না থাকায় ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার ৮১৩ নং কেবিনে ভর্তি করে রাখা হয়। তাকে দেখাশোনার জন্য ঝিলিক হাসপাতালে অবস্থান করেন।
আরও বলা হয়, সাফি উল্লাহকে দেখতে শুক্রবার সকালে তার বোন, ভগ্নিপতি ও প্রথম পক্ষের ছেলে হাসপাতালে আসে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সকাল ১০টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বিষয়টি ঝিলিক তার বোন ও মোজাম্মেলকে জানান এবং হাসপাতালে বিলের জন্য ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঝিলিকের সাথে তার ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভিডিও কলে কথা হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর সাফি উল্লাহ ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানান, ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে মারা গেছেন।
