দলীয় কার্ড নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের ভোটকক্ষে অবস্থান: ঢাকা-১৮ আসনের এনসিপি প্রার্থীর অভিযোগ
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ঢাকা–১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, 'বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের পোলিং এজেন্টরা প্রার্থীর আইডি কার্ড ব্যবহার করছেন, যা আচরণবিধির পরিপন্থী।'
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টার দিকে উত্তরা হাইস্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন আরিফুল ইসলাম আদীব।
আরিফুল বলেন, 'নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী বুথে সব দলেরই পোলিং এজেন্ট থাকবে। কিন্তু কেউ কোনো দলীয় পরিচয়পত্র গলায় নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। কিন্তু এখানে চার-পাঁচটি বুথ ঘুরে দেখেছি বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে থাকা পোলিং এজেন্টরা ধানের শীষ প্রতীকের কার্ড নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ পোলিং এজেন্টরা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ দলীয় যে কার্ড করা হয়েছে, তা নিয়ে ভোটকক্ষে অবস্থান করছেন তারা।'
তিনি অভিযোগ করেন, এতে ভোটাররা প্রভাবিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ জানানো হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, 'এখানে তাকে (প্রিজাইডিং অফিসার) ডেকে বলছি। মানে শুধু অভিযোগ জানানো না, তাকে এনে চাক্ষুষ মিডিয়ার সামনে কী হচ্ছে, তা দেখিয়েছি। তাঁর সহকারীদের সঙ্গে তিনি বাগ্বিতণ্ডা করছেন। কিন্তু বলছেন যে ব্যবস্থা নেবেন। এখনও পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা আমরা দেখি নি।'
কেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, 'কোনো জটিলতা চোখে পড়েনি। তবে এখানে আমরা বেশ কিছু অনিয়ম লক্ষ্য করেছি। প্রথমত বেশ কয়েকজন ভোটার অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি ওয়েবসাইটে ভোট নম্বর পেলেও প্রিন্ট করা স্লিপে পাচ্ছেন না। ফলে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা।'
উল্লেখ্য, একই সময়ে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ঢাকা–১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনও।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'আমার পোলিং এজেন্ট তো আমার বেশ পরেই থাকবেন। পোলিং এজেন্ট কার এজেন্ট? এস এম জাহাঙ্গীরের এজেন্ট। তা না হলে আমার যে পোলিং এজেন্ট আছে, তার আইডেন্টিটি কী? এটা একটা রেওয়াজ। কারণ সে যে প্রার্থী বা মার্কার পক্ষে যায়, তার সিম্বলিক কার্ডটা তার গলায় থাকে। এটা তো দোষের কিছু না।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার ৫৭ বছর বয়স। ৪০ বছর আগে যখন ভোটার হয়েছি, আমিও পোলিং এজেন্ট ছিলাম। তখনও এভাবে কার্ড ঝুলিয়ে রেখেছি। এখানে অপরাধ কোথায়, আমি বুঝতেছি না।'
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলার অন্যতম বৃহৎ এ আসনের মোট ভোটার ৬ লাখ ৫ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৫৪ জন নারী এবং ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪০ জন পুরুষ।
ভোটার ও স্থানীয়রা বলছেন, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আরিফুল ইসলাম আদীবের মধ্যে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার, জাতীয় পার্টির মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল–বাসদের সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সাবিনা জাবেদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জসিম উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেন।
