‘আমাদের আশা ও প্রচেষ্টা ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফলাফল পাওয়া যাবে’: ইসি আনোয়ারুল
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টিবিএসের প্রতিনিধি জহির রায়হান।
আর মাত্র তিন দিন বাকি। এখনো জনমনে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ১২ তারিখ নির্বাচন হবে কি না, এমন প্রশ্নও করছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কতটা আত্মবিশ্বাসী?
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—কোনো ধরনের আশঙ্কার কারণ নেই। নির্বাচন নিয়ে যত শঙ্কা ছিল, সেগুলো আমরা সবার সহযোগিতায় ইতিমধ্যে কাটিয়ে উঠেছি। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব। ১২ তারিখে চমৎকার নির্বাচন উপহার দেব। বালাদেশের ইতিহাশে অতীতে যত নির্বাচন হয়েছে, সবগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনি পরিবেশ ভালো।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ও জনমনে উদ্বেগ আছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মাঠে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট নামানো হয়েছে। মোট কতজন দায়িত্বে থাকবেন?
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। সবার লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়া।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনটি সুসমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যারা নিয়োজিত থাকবেন, তারা স্ব স্ব কমান্ডের আওতায় দায়িত্ব পালন করবেন।
আমরা মনে করি, আগের পরিস্থিতির তুলনায় আইনশৃঙ্খলা অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এবারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমি বলব উত্তম। সব বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
মনিটরিং সেল, মিডিয়া সেল—এসব কীভাবে কাজ করবে নির্বাচনের দিন?
প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম থাকবে—ইলেকটোরাল, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পর্যবেক্ষক কমিটি এবং আইনশৃঙ্খলা সেল। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর তথ্য সংগ্রহ করে তা জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসসহ কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠানো হবে। আমাদের অটোমেশন সিস্টেমের মাধ্যমেও এসব তথ্য রিয়েল-টাইমে পাওয়া যাবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া প্রচারণা ও আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
আমাদের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া—সব জায়গা মনিটর করছে। কোন তথ্য সত্য, কোনটি ভুয়া, তা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি আর কী থাকছে?
যেসব কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে। এতে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা অনেকের। কেউ কেউ বলছেন, তিন দিনও লেগে যেতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি কী?
দিন ধরে ধরে আমরা বিষয়টি হিসাব করছি না। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। ওই দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ১২ তারিখই থাকবে, এরপর ১২টা ১ মিনিটে ১৩ তারিখ শুরু হবে। আমাদের আশা ও প্রচেষ্টা হচ্ছে—১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফলাফল পাওয়া যাবে। এমনকি পুরো ১৩ তারিখও লাগার কথা নয়। কারণ ফলাফল সংগ্রহের জন্য একাধিক ডিভাইস ও আধুনিক সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।
রাত ১২টা পর্যন্ত বা তার পরেও কি গণনা চলতে পারে?
এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। কিছু দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকার ফলাফল আসতে সময় লাগতে পারে। কয়েকটি কেন্দ্রের বোর্ডের ফল দেরিতে এলে সামান্য বিলম্ব হতে পারে। তবে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত। সে হিসেবে দেরি হওয়ার বিষয়টি গুরুতর কিছু নয়। সঠিক সময়েই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
অবৈধ অস্ত্র ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে অনেকের উদ্বেগ রয়েছে।
যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আরও উদ্ধার হবে। নির্বাচন নিরাপদ রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার বিষয়ে কমিশনের ভূমিকা কী?
গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে—এটাই নির্বাচন কমিশনের অবস্থান। কোনো সাংবাদিককে বাধা দেওয়া হলে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ এর কথা জানিয়েছেন অনেক নারী সংগঠনের নেত্রী । কমিশন কীভাবে বিষয়টি দেখছে?
শুধু নারী নয়, সব ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্যই এত বড় পরিসরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের হয়রানি বরদাশত করা হবে না।
ভোটারদের জন্য আপনার বার্তা কী?
নির্বাচন কমিশন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আমি সব ভোটারকে আহ্বান জানাব—নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন, আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। আসুন, সবাই মিলে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিই।
