রাজধানীর উত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬
আজ (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তরায় ছয়তলা একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য।
দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ।
এর আগে সকালে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন- কাজী ফজলে রাব্বি (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাদের ছোট ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২)। রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়ে। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা চাকরি করতেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। ঘটনার সময় তাদের আরেক ছেলে কাজী ফাইয়াজ রাফসান উত্তরায় নানীর বাসায় ছিলেন।
অপর নিহত তিনজনও একই পরিবারের। তাদের মধ্যে বাবা ছেলে ও তাদের এক আত্মীয় রয়েছেন, তারা হলেন- হারিছ উদ্দিন (৫২) তার ছেলে রাহাব (১৭) ও হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।
ওসি রফিক টিবিএসকে বলেন, 'আবাসিক ভবনে আগুনের ঘটনায় মোট ৬ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যান রাব্বি, হারিছ ও রাহাব। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আফরোজা। লুবানা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান রোদেলা আক্তার এবং উত্তরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা যায় আড়াই বছর বয়সী শিশু রিশান।'
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (এফএসসিডি) কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং তারা মাত্র চার মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছায়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তাদের তৎপরতার ফলে সাততলা ভবনটির ওপরের তলাগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়।
উদ্ধার অভিযানের সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকা পড়া ১৩ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি।
