রমজানের আগে কমেছে পেঁয়াজ ও সবজির দাম; বেড়েছে চিনির দাম
আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ঢাকার বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে পেঁয়াজ, শীতকালীন সবজি, ডিম ও মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ভোক্তারা।
কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর খোলা ও প্যাকেটজাত—উভয় ধরনের চিনির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা চিনি এখন কেজিতে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ টাকা।
প্যাকেটজাত চিনির দামও এখন কেজিতে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, যেখানে আগে তা ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। তবে নতুন দামে পণ্য এখনো সব দোকানে পৌঁছায়নি।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় চিনির দাম বেড়েছে।
লালবাগ এলাকার মুদি দোকানি মিরাজ বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে চিনির দাম বাড়ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহ থেকে নতুন করে প্যাকেটজাত করা চিনির দাম কোম্পানিগুলো বাড়িয়েছে।
পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরবরাহের কোনো ঘাটতি ছিল না।
এর বিপরীতে, সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজ ও শীতকালীন সবজির দাম কমেছে।
বর্তমানে অনেক সবজি কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩০ থেকে ৪৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আর মূলা বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।
বেগুনের দাম কমে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। মাঝারি আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখনো কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শালগম ও পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, আর ব্রকোলি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
তবে মৌসুমবহির্ভূত কিছু সবজির দাম এখনো বেশি রয়েছে। পটোল, করলা ও ঢেঁড়স কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর টমেটোর দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।
প্রায় এক মাস আগে বাজারে আসা নতুন মৌসুমের দেশি পেঁয়াজ এখন কেজিতে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা শুরুতে ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম সামান্য বেশি, কেজিতে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।
হাতিরপুলের পেঁয়াজ বিক্রেতা হাবিব বলেন, দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা দেশি পেঁয়াজই বেশি কিনছেন। তিনি জানান, নতুন আলুর দামও কমেছে, ফলে এর চাহিদা বেড়েছে এবং পুরোনো আলুর বিক্রি কমে গেছে।
ক্রেতাদের ভাষ্য, সবজির দাম কমায় তারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
হাতিরপুলে বাজার করতে আসা মাহিন বলেন, আগে যে সবজি কিনতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাগত, এখন একই টাকায় একটি পুরো ব্যাগ ভরে যায়। এতে পরিবারের খাবারে বৈচিত্র্যও বাড়ছে।
ডিম ও মুরগির দামেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। খামারের ডিম এখন ডজনপ্রতি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০ টাকা।
খামারে পালন করা মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। আর সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা কম।
মুরগি বিক্রেতা কাদের বলেন, শীতকালে রোগবালাই ও মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকায় খামারিরা মুরগি আগেভাগেই বিক্রি করে দেন। একই সঙ্গে মৌসুমের কারণে ডিম ও মুরগির চাহিদাও কমে আসে।
এদিকে মাছের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। কোরাল মাছ কেজিতে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় এবং আইড় মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম সামান্য কমে কেজিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমেছে।
টেংরা মাছের দাম কেজিতে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সারপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায়।
চিংড়ির বাজারে বড় চিংড়ি কেজিতে ৭৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ছোট চিংড়ির দাম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।
তবে ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, পাইকারি বাজারে মাছের দাম কমলেও তার পুরো সুফল খুচরা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
