খালেদা জিয়ার সময়ে নারীদের বিনা-বেতনে শিক্ষার সুযোগ গার্মেন্টসের অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে: শামীম এহসান
১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল নারীদের একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা-বেতনে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। এই সুযোগ পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প তথা শিল্পায়নের অগ্রগতিতে একটি বড় ভুমিকা রেখেছিল। শুধু তাই নয়, এটি শিশুশ্রম কমানোর ক্ষেত্রেও ভুমিকা রেখেছিল।
৯০' এর দশকের শুরুতে বা তার আগে পোশাকখাতে নারী শ্রমিকের অনুপাত ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু, যখন নারীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হলো, এটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার বাড়তে লাগল। এই সুযোগ না থাকলে তাদের কম বয়সে বিয়ে হয়ে যেত বা তারা অন্য কোন কাজে চলে যেত। কেননা বেশিরভাগ গরীব অভিভাবকের পক্ষে মেয়ের শিক্ষার খরচ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো না।
অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হতে হতে, তার বয়সও ১৮ হয়ে যেত, ফলে ওই বয়সে তাদেরকে কারখানায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হতো। কেননা গার্মেন্টসে শিশুশ্রম নিয়োগের জায়গা ছিল না। এই সুযোগ পাওয়ার পর থেকে নারীদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ যেভাবে বেড়েছে, প্রকারান্তরে এই সুযোগ কারখানায় শিশুশ্রম কমাতেও সহায়তা করেছিল। নারী শ্রমিকরা যোগ দিতে শুরু করলে কারখানায় নারী শ্রমিকের হার বাড়তে থাকে, এবং ২০০০ সালের পর তা মোট শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছায়।
এছাড়া বিএনপি'র শাসনামলে নেওয়া বেশকিছু নীতি সিদ্ধান্ত দেশের শিল্পায়ন—বিশেষত পোশাক খাত ও পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প হিসেবে টেক্সটাইল খাতের অগ্রগতিতে অসামান্য ভুমিকা রেখেছে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সময়ে স্থানীয় শিল্পের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিএনপি'র সময়ে নেওয়া টেক্সটাইল মিলকে দেওয়া ২৫ শতাংশ প্রণোদনা এ খাতে বিনিয়োগে অনেককে উৎসাহিত করেছে।
এর বাইরে এ খাতের জন্য আরো কিছু নীতি সুবিধা দেওয়া হয় ওই সময়ে এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সরকারের সময়ে – যার ফলশ্রুতিতে টেক্সটাইলখাতে আজ ২৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। এবং নিটওয়্যারের প্রায় শতভাগ এবং ওভেনের ৫০ শতাংশের বেশি দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলো সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
লেখক: ফজলে শামীম এহসান—সভাপতি, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন
