ব্যাটারি রিকশাচালকদের আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ: সিলেটে সিপিবি-বাসদের ২৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
সিলেটে ব্যাটারি রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ২৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাতে নগরের আখালিয়া কালীবাড়ি এলাকার বাসা থেকে সিলেট সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে বাসদের সিলেট কার্যালয় থেকে ২২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সিলেট নগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ। এরপর অভিযান চালিয়ে বহু রিকশা জব্দ ও একাধিক চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর থেকেই নগরে ব্যাটারি রিকশা চলতে দেওয়া হচ্ছে না।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে। বিভিন্ন বাম দলও এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। তবে শুরু থেকেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় পুলিশ।
এই ইস্যুতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেটের আম্বরখানা এলাকার বাসদ কার্যালয় থেকে আলোচনার কথা বলে বাসদ সিলেট জেলার আহ্বায়ক আবু জাফর ও সদস্যসচিব প্রণব জ্যোতি পালকে আটক করে পুলিশ।
সবশেষ গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরের চৌহাট্টা–জিন্দাবাজার সড়ক অবরোধ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকেরা আন্দোলন করেন। এতে আনোয়ার হোসেন সুমনসহ কয়েকজন রাজনীতিবিদ অংশ নেন। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা রিকশা–ভ্যান–ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে একই দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ হয়।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে আনোয়ার হোসেনসহ আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১১ দফা দাবি জানিয়ে আগামীকাল রোববার পর্যন্ত সময় দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। ওই আলটিমেটাম শেষ হওয়ার এক দিন আগেই আনোয়ার হোসেন সুমনসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "নগরীতে ব্যাটারি রিকশা চালকদের আন্দোলনের নামে 'উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড' এবং সিসিকের গেট ও সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনায় সুমনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে আটক করা হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনের দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। পুলিশ তাকে আদালতে তুলে রিমান্ড আবেদন করবে।"
বাসদ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আজ ব্যাটারি রিকশা শ্রমিকরা নগরে কর্মসূচি করতে চেয়েছিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়। যাচাই–বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।"
তবে বাসদ সিলেট জেলা সভাপতি আবু জাফর বলেন, "ব্যাটারি রিকশার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ চৌহাট্টা থেকে 'ভূখা মিছিল' কর্মসূচি ছিল। শুক্রবার রাতে পুলিশ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। কিন্তু সব শ্রমিককে জানানোর সময় পাওয়া যায়নি, তাই সকালে শহীদ মিনার এলাকায় কয়েকজন জড়ো হন।"
তিনি দাবি করেন, তাদের কার্যালয়ে কেউ ছিলেন না। সেখানে নিয়মিত পাঠচক্র চলছিল। আচমকা অভিযান চালিয়ে পুরো অফিস ঘেরাও করে ২২ নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী অভিযোগ করেন, ব্যাটারি রিকশা শ্রমিকদের আন্দোলনে "তৃতীয় পক্ষ ইন্ধন দিচ্ছে"। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে সংঘাতের আশঙ্কায় রোববারের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
