লাদাখ সংঘর্ষ নিয়ে মোদির বৈঠক, চীন-ভারতকে সংযমের আহ্বান জাতিসংঘের
পূর্ব লাদাখ সীমান্তের গালোয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের সঙ্গে হাতাহাতি লড়াইয়ে নিহত ২০ ভারতীয় সেনা। দেশটির সেনাবাহিনী মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করার পরেই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের।
গত মঙ্গলবার রাতের এ বৈঠকে অংশ নেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং সেনাপ্রধান এমএম নারভানে। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গালোয়ান উপত্যকায় চীনের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বেশ কদিন ধরেই ভারতের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবারের সর্বশেষ বৈঠকটি ছিল আরেকটু বেশি উত্তেজনাপূর্ণ। সেনাপ্রধানের সঙ্গে পরবর্তী করণীয় এ বৈঠকে আলাপ করেছেন ভারতীয় মন্ত্রীরা।
তবে এ বৈঠকের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। খবর এনডিটিভির।
এদিকে জাতিসংঘ বিবাদমান দুই পক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের এক মুখপাত্র এরি কানেকো বলেন, ভারত এবং চীনের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সংঘাত এবং প্রাণহানির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। উভয় দেশই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে আমরা নানা সূত্রে জানতে পেরেছি। এই ধরনের পদক্ষেপকে জাতিসংঘ ইতিবাচক বলে মনে করছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দেশদুটিকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভারত এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার চীন উভয়েই পরমাণু শক্তিধর দেশ। এই অবস্থায় চীনের সঙ্গে সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এই সংঘাত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়েও।
প্রায় ৫ দশক পর এই প্রথম চীন-ভারত রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
উভয়পক্ষই একে অন্যের প্রতি সংঘাত উস্কে দেওয়ার অভিযোগ করেছে এরপর। ভারত এজন্য চীনকে দোষী করে বলেছে, গালোয়ান উপত্যকায় চীন তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভারতীয় সেনারা যে প্রথমে সীমান্ত অতিক্রম করেছে, চীনের এমন দাবিকে নাকচ করার চেষ্টা করা হয়।
সংঘর্ষে জড়িত উভয়পক্ষের তরফ থেকেই 'হাতাহাতি লড়াইয়ের' কথা জানানো হয়। এসময় একে অন্যের প্রতি পাথর ছুঁড়ে মারে চীন ও ভারতের সেনারা।
ভারতের অভিযোগ এক পর্যায়ে চীনা সৈন্যরা লোহার রড এবং পেড়েক বসানো মুগুর ব্যবহার করে হামলা করে। গত সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত এই রক্তক্ষয়ী লড়াই চলে। বার্তা সংস্থা এএফপি'কে লাদাখের একটি ভারতীয় সেনাসূত্র এ কথা জানিয়েছে।
এদিকে ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, সার্বিক পরিস্থিতিকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার কথা জানায়। চলমান বিরোধের 'শান্তিপূর্ণ' সমাধান কামনা করেছে বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তিটি।
