ইউক্রেনের 'লাইট ব্রিগেড' কৌশল আত্মঘাতী; পশ্চিমা সামরিক পর্যবেক্ষক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সামরিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউক্রেনীয় সেনাদের গত দুই দিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সমর কৌশলের সাধারণ নীতি অনুসরণ করা হয়নি। তাদের কাজকে 'আত্মঘাতী মিশন' বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউরোপীয় জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, আপনি যদি আক্রমণ চালাতে চান, আর আপনার হাতে কেবল এক ডজনের মতো সামরিক ইউনিট এবং কয়েক ডজন ট্যাংক থাকে, তাহলে সেগুলোকে জড়ো করুন। এরপর (প্রতিপক্ষের) প্রতিরোধ ভাঙার চেষ্টা করুন। কিন্তু ইউক্রেনীয় বাহিনী (সেনাদলগুলো একসাথে না করে) ভিন্ন পাঁচ দিকে ছুটছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা তাদেরকে এমন বিচ্ছিন্ন কৌশল বন্ধ করে পদাতিক বাহিনীর সহায়তায় একটি কঠোর হামলার পরামর্শ দিয়েছি। এরপর তারা যা পারে করুক।
এই ইউরোপীয় কর্মকর্তা আরও বলেন, 'তারা (ইউক্রেনীয় বাহিনী) ব্রিটিশদের হাতে প্রশিক্ষিত। আর এখন তারা "লাইট ব্রিগেড" খেলছে।' লাইট ব্রিগেড ছিল ১৮৫৪ সালের বালাক্লাভা যুদ্ধের সময় রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে কম সদস্যের ব্রিটিশ অশ্বারোহী বাহিনী কর্তৃক গৃহীত একটি সামরিক পদক্ষেপ, যে ভুল সিদ্ধান্তে অশ্বারোহী বাহিনীর বেশিরভাগই মারা যায়।
পুঁতে রাখা বিস্ফোরক (মাইন) নিষ্ক্রিয় করা যানবাহন সামনের দিকে না রেখেই ইউক্রেনের ট্যাংকগুলো মাইনফিল্ডে ঢুকে পড়ে । এতে গত ৪ জানুয়ারি রাতে ৩৮টি ট্যাংক হারায় কিয়েভ বাহিনী। তার মধ্যে অনেকগুলো ছিল নতুন করে বহরে যুক্ত হওয়ার লেপার্ড ২ ট্যাংক।
আরেকটি সামরিক সূত্র জানায়, 'কিছু ইউক্রেনীয় সেনা গুডেরিয়ানের মতো সাফল্য পেতে চেয়েছে। তবে গুডেরিয়ানের হাতে ছিল তিন হাজার ট্যাংক। আর এসব নির্বোধরা ৩০টি ট্যাংক দিয়ে জুয়া খেলতে চেয়েছে, যেখানে আকাশপথেও তাদের আধিপত্য নেই। এটি একটি আত্মঘাতী মিশন।' হেইঞ্জ গুডেরিয়ান ছিলেন জার্মান জেনারেল—১৯৪০ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি।
রাশিয়ার কেএ-৫০ এবং কেএ-৫২ যুদ্ধ হেলিকপ্টার একাই ২০টি ট্যাংক ধ্বংস করার মতো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে, আর ১০ কিলোমিটার দূর থেকেই তা করতে পারে। তবে রাশিয়া বারবার সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করেছে। এখন ইউক্রেনকে তাদের হাতে থাকা অল্পসংখ্যক এস-৩০০ ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। পোল্যান্ডের দেওয়া লেপার্ড ট্যাংকগুলোর পাশাপাশি জার্মানির দেওয়া ১৪টি লেপার্ডের মধ্যে ৩টি ধ্বংস হয়েছে।
ইউক্রেনীয় হাইকমান্ডের এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত কিয়েভে কাজ করা ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসেছে। এখন পর্ন্ত তিন থেকে চারটি পশ্চিমা-প্রশিক্ষিত বাহিনী জাপোরিঝিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব সিদ্ধান্তের জন্য উপযুক্ত সামরিক কৌশলের প্রয়োজন। রাজনৈতিক হতাশা থেকে আসা কোনো সিদ্ধান্ত যেন না হয়।
