প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৩৬ হাজার টাকা দিলেন দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা
করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকটে পরা কর্মহীনদের সহায়তার জন্য নগদ ৩৬ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করে মহানুভবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থান করেছেন পাবনা বেড়া পৌর এলাকার দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস।
শুক্রবার বেড়া উপজেলা প্রশাসন কতৃক আয়োজিত 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা'র খাদ্যসামগ্রী উপহার বিতরণকালীন স্থানীয় সাংসদ ও ইউএনওর মাধ্যমে ৩৬ হাজার টাকা দান করেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস।
মাত্র ১০০ টাকা দিন হাজিরায় অস্থায়ীভিত্তিতে বেড়া পৌরসভায় পিয়ন পদে কাজ করেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস। বেড়া পৌর এলাকার নতুন এলাকার বাসিন্দা তার ঘর মেরামতের জন্য জমানো ৩৬ হাজার টাকা কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য দান করেন।
এই টাকা ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বাবদ প্রতিমাসে যে ১২ হাজার টাকা পান তাই দিয়েই কোনোরকমে চলে তার সংসার। তার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের মধ্যে এক ছেলে মাছ ধরার কাজ ও অন্য ছেলে গরু বিক্রিতে দালালির কাজ করেন।
দুই ছেলের জন্য দুটি ঘর থাকলেও তার ঘরটি ভেঙেচুরে গেছে। সে ঘর মেরামতের জন্য তিন মাসের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাবদ পাওয়া ৩৬ হাজার টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মহীনদের কষ্ট দেখে তিনি ঘর মেরামতের সিদ্ধান্ত বাদ দেন।
তার বাড়ির কাছেই শহীদ আব্দুল খালেক স্টেডিয়াম মাঠে বেড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা'র খাদ্যসামগ্রী উপহার বিতরণ কার্যক্রমে অসহায় হতদরিদ্রদের অংশ নিতে দেখে তিনি তার জমানো টাকা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তার ধারণা পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু ও বেড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী তাদের দুজনের কাছে ওই টাকা দেওয়া হলে তা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পৌঁছাবে।
এসময় বেড়া পৌর এলাকার স্বল্প আয়ের ও অসহায় ২৫০টি পরিবারের মাঝে সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ ব্যাপারে ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস প্রকৃত পক্ষেই মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। তার দান করা ৩৬ হাজার টাকা শনিবার ডিসি স্যারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানো হবে।
