৫০ লাখ পরিবারকে নগদ টাকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ অসহায় পরিবারের জন্য নগদ ১২৫০ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা কার্যক্রম বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঈদুল ফিতরের আগে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, রকেট, নগদ ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার নগদ ২৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং/অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্বলিত বোতাম টিপে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী এসময় বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অসহায়দের সহযোগিতায় আরও বেশি করে এগিয়ে আসুন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আবারও আহ্বান জানান, নিজ নিজ এলাকার অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে এবং ধান কাটায় অংশ নিয়ে কৃষকদের কষ্ট লাঘব করতে। সব ধরনের পতিত জমিতে যে কোনও ধরনের ফসল ফলানোর উদ্যোগ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, 'কোনও মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। সরকার সেই চেষ্টা করছে। আপনারা মনোবল শক্ত করে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবেন।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে অনেক বড় পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এই পরিকল্পনা সীমিত করা হয়েছে।এই পরিকল্পনার যেসব খাতে অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব তা করে সেই অর্থ অসহায়দের সহায্যে কাজে লাগানো হবে।
উল্লেখ্য, এ প্রসঙ্গে বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান বলেন, 'প্রতিদিন ১০ লাখ মানুষ নগদ সহায়তা পাবেন এবং পুরো তহবিল ১৪ থেকে ১৮ মে'র মধ্যে বিতরণ করা হবে।'
তিনি বলেন, এখন সরকারের ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে এমন ১ কোটি ২৫ লাখ পরিবারের মধ্যে দরিদ্রতম ৫০ লাখ পরিবারের সমন্বয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার সরকারের অর্থ বিভাগ ৫০ লাখ মানুষকে নগদ সহায়তার জন্য ১২শ' ৫৭ কোটি টাকার তহবিল ছাড় করে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জন্য বাজেট-১ শাখা থেকে ৬২৭ কোটি টাকা এবং বাজেট-৩ শাখা থেকে ৬৩০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এই বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
