ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ার পর আরব জয়ের মিশন শুরু ব্রাজিলের
১৯৫৮ তে সুইডেন, ১৯৬২ তে চিলি, ১৯৭০ এ মেক্সিকো, ১৯৯৪ এ যুক্তরাষ্ট্র আর ২০০২ সালে জাপান-কোরিয়া। ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া সব মহাদেশই জয় করেছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মতো তিনটি মহাদেশে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব নেই আর কারো।
এবারের বিশ্বকাপও এশিয়াতেই হচ্ছে, তবে সেটি জাপান-কোরিয়ার শীতল আবহাওয়া থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে। মরুর দেশ কাতারের গরম আর ধুলার আধিক্য তো আর আগে দেখেনি দক্ষিণ আমেরিকান দেশ ব্রাজিল। ভোগৌলিকভাবে তো বটেই, ফুটবল সংস্কৃতিতে নিজেদের থেকে আলাদা দেশগুলোতে সাফল্য পেয়েছে ব্রাজিল। তাদের পাঁচ বিশ্বকাপ শিরোপা এসেছে তিনটি ভিন্ন মহাদেশে।
তবে নিজেদের দেশে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে জার্মানির কাছে সেই বিখ্যাত হার না হলে হয়তো আরেকটি মহাদেশ যুক্ত হতে পারতো ব্রাজিলের জয় করার খাতায়, আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত হওয়া একমাত্র বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার-ফাইনালে বিদায় নেয় ব্রাজিল। আর এবার আরবের বুকে হওয়া প্রথম বিশ্বকাপেও অন্যতম ফেভারিট জোগো বনিতোর দেশ।
ভিন্ন পরিবেশেও ব্রাজিলের এই দুর্দান্ত সাফল্যের পেছনে আছে তাদের শত বছরের ফুটবল ঐতিহ্য, সৌন্দর্য্য আর আত্মবিশ্বাস। যুগে যুগে ব্রাজিল জন্ম দিয়েছে বিশ্বমানের খেলোয়াড়। ১৫৮, ১৯৬২ তে পেলে-গারিঞ্চা, ১৯৭০ এ জায়ারজিনহো-রিভেলিনো, ১৯৯৪ এ রোমারিও-কাফু, ২০০২ এ রোনালদো-রোনালদিনহো, প্রতিটি বিশ্বকাপজয়ী দলেই ছিলেন একের অধিক সাম্বা ফুটবলের শিল্পীরা।
গত ২০ বছরে বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজিল, এই সময়ের মধ্যেও অসাধারণ সব খেলোয়াড় এবং দলের সমন্বয় দেখেছে ব্রাজিল। কিন্তু কখনো ভাগ্য, কখনো একটি বাজে দিন তাদের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে গত ৪ টি বিশ্বকাপে।
এবার কাতারে সাম্বার মশালটা নেইমার-ভিনিশিয়ুসদের হাতে। অনেকের মতেই, হেক্সা জেতার সবথেকে বড় সুযোগটা এবারই ব্রাজিলের সামনে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে আরো নতুন একটি পরিবেশে বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ডটা সমৃদ্ধই হবে ব্রাজিলের।
