আরব আমিরাতের উপকূলে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা: ভারতীয় ২২ নাবিককে উদ্ধার
পানামার পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ 'এমটি জেম নম্বর ২'-এ গত ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ নোঙর এলাকায় ড্রোন হামলা হয়। তবে জাহাজটিতে থাকা ২২ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদ আছেন। শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এ কথা জানিয়েছেন। ভারতের সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সোনোয়াল বলেন, জাহাজটির নাবিকেরা নিরাপদ আছেন—এ খবর জানাতে পেরে তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি 'নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে'। নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। এ ছাড়া ঘটনার অন্য কোনো বিস্তারিত তথ্যও জানাননি।
উপসাগরীয় অঞ্চল ও কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনার পর জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষায় আরও জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে ভারত। এর মধ্যেই সর্বশেষ এ হামলার ঘটনা ঘটল।
'এমটি জেম নম্বর ২' পানামায় নিবন্ধিত একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ। সোনোয়াল জানান, গত ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ নোঙর এলাকায় জাহাজটিতে ড্রোন হামলার সময় এর নাবিক হিসেবে ২২ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।
সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, শারজাহ নোঙর এলাকা আরব উপসাগরে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই অঞ্চলের কাছে অবস্থিত।
সোনোয়াল বলেন, জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তাঁদের লক্ষ্য, জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে হামলায় জাহাজটির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, কিংবা ক্ষতি হয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
এর আগে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় 'জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক বন্ধু রাষ্ট্রগোষ্ঠী' নামে একটি নতুন গোষ্ঠীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই এই গোষ্ঠীর অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি, সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন হামলা প্রতিরোধ করাও এর উদ্দেশ্য।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিয়ে এই গোষ্ঠী গঠিত হয়েছে। এ ছাড়া যেসব দেশে বিপুলসংখ্যক নাবিক রয়েছেন, সেসব দেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
নিউইয়র্কে গোষ্ঠীটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং লাইবেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারা বেইসোলো নাইয়ান্তি। বৈঠকে ২৫টি দেশ অংশ নেয়। ভারত ও লাইবেরিয়া যৌথভাবে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চল, এর আশপাশের জলসীমা এবং কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর চালানো হামলার নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
দেশ দুটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হামলার কারণে বাণিজ্য ব্যাহত হয় এবং মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান নাবিক সরবরাহকারী দেশ। অন্যদিকে, জাহাজের মোট ধারণক্ষমতার হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ নিবন্ধনব্যবস্থা রয়েছে লাইবেরিয়ার। বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে দেশ দুটি একসঙ্গে কাজ করছে।
