টেনেসিতে দুইবার ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা: জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের, কথা বলছেন
টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টায় বেঁচে যাওয়া বন্দি ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে এবং তিনি কথা বলছেন। বর্তমানে তিনি একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
পাইকের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেন, "সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে, কথা বলছেন এবং এখনও গুরুতর চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার দুই হাতের গুরুতর ক্ষতি হওয়া সত্বেও তাকে হাসপাতালে বিছানার সঙ্গে হাতকড়া ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "তার সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজিরবিহীন। তার ভবিষ্যৎ শারীরিক অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অন্তত আমরা আশা করছি, তার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।"
পাইকের আইনজীবীরা বলেন, তারা জরুরি সেবাকর্মী এবং হাসপাতালের চিকিৎসা দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ তারা "ক্রিস্টার সঙ্গে একজন মানুষের মতো আচরণ করেছেন এবং তাকে অসাধারণ চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।" গত বুধবার ন্যাশভিলের একটি কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাইককে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে—এমন ইঙ্গিত এই প্রথম পাওয়া গেল।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে গত বুধবার টেনেসির কর্মকর্তারা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হলেও তিনি বেঁচে যান।
রোববার তার আইনজীবী এবং সহকারী ফেডারেল পাবলিক ডিফেন্ডার স্টিফেন ফেরেল বলেন, "তিনি এখনও হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের সহায়তায় আছেন এবং তার অবস্থা গুরুতর। তার ভবিষ্যৎ শারীরিক অবস্থা কী হবে, আমরা এখনও সত্যিই জানি না। হয়তো আরও কয়েক দিন না গেলে সেটি জানা সম্ভব হবে না।"
বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী পাইক ১৯৯৫ সালে যখন তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে নির্যাতন ও হত্যা করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। তীব্র ঈর্ষার বশে তারা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।
এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকায় জায়গা পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী নারীদের একজন হয়ে ওঠেন পাইক।
পাইক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওই প্রচেষ্টার পর জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরেল বলেন, "আমার জানা মতে, না।" তিনি আরও জানান, চিকিৎসকেরা তখনও পাইকের শরীর থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রবেশ করা বারবিচুরেটজাতীয় ওষুধ বের করার চেষ্টা করছিলেন।
পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বুধবার আট ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্ব হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একটি ফেডারেল আপিল আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছিল।
ফেডারেল আপিল আদালত পাইকের প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছিল। আদালত চেয়েছিল, শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়ে পাইকের দেওয়া তথ্য যে বিচারকমণ্ডলী তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, তাদের বিবেচনা করার কথা ছিল কি না, সেটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করতে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত ফেডারেল আপিল আদালতের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ আবারও খুলে যায়।
