১০ দিন পর হাসপাতাল ছাড়লেন ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইক; ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে কারাগারে
যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দী ক্রিস্টা পাইককে গত মাসের শেষের দিকে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার ১০দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
শনিবার তাদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৫০ বছর বয়সী পাইককে আবারও কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি গত ৩০ বছর ধরে বন্দী ছিলেন। সেখানে এখনও তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে 'পেন্টোবার্বিটাল' নামক ওষুধের দুটি বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়া সত্ত্বেও তিনি বেঁচে যান, যা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেলে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পাইক চেতনা ফিরে পান এবং কথা বলতে শুরু করেন—যা বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক দল এবং তার আইনজীবীদের বিস্মিত করেছে।
তার মামলাটি এখন ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে, কারণ বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে তাকে ধরা হচ্ছে।
পাইকের আইনজীবীরা বিবৃতিতে জানিয়েছেন, 'এই অসাধারণ ও অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে যে পরিচর্যা তারা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মী (ফার্স্ট রেসপন্ডার) এবং চিকিৎসা দলের প্রতি কৃতজ্ঞ।'
কারাগারে ফেরত যাওয়ার পর পাইককে এখন কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়, তবে তার আইনজীবীরা ইতোপূর্বে জানান, 'পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।'
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি কেন পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি, সে বিষয়ে টেনেসি কারারক্ষী বিভাগ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তারা ব্যবহৃত পদ্ধতির পক্ষে। বুধবার আদালতের এক শুনানিতে টেনেসির অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়ার্স বিচারককে জানান, রাষ্ট্র তাকে আবারও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করবে কি না, তা তিনি জানেন না।
বিচারক রাজ্য কর্তৃপক্ষকে ব্যর্থ ইনজেকশন সম্পর্কিত সমস্ত প্রমাণ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই প্রমাণগুলো ভবিষ্যতে রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
পাইকের বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তিনি এবং তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেন। সুবিধা বঞ্চিত তরুণদের একটি কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তাদের সাথে কলিনের দেখা হয়।
অপরাধটি সংঘটিত হওয়ার সময় শিপ আইনিভাবে প্রাপ্তবয়স্ক না থাকায় তিনি মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পান। তিনি বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছেন। ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত হওয়া প্রথম নারী ছিলেন ক্রিস্টা পাইক।
তার আইনজীবীরা কয়েক দশক ধরে তার সাজা মওকুফের জন্য আপিল করে আসছেন। তবে তার নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এবং টেনেসির গভর্নর বিল লি—উভয়েই এই মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানান।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পাইকের আইনজীবীরা তার সাজা কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়াই আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি আবার জোরালো করেছেন। ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর পাইক জ্ঞান হারান এবং তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার আইনি দল বেশ কয়েক দিন ধরে বিশ্বাস করেন যে তিনি ব্রেন ডেড অবস্থায় আছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হবে বলে তারা আশঙ্কা করেন।
অবশেষে পাইক জ্ঞান ফিরে পান এবং মঙ্গলবার আবার কথা বলতে শুরু করেন—তার আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানান, জ্ঞান ফেরার পর তার প্রথম কথাগুলো ছিল "আমি কোথায়?" এবং "আপনি কে?"
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তার আইনজীবীরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে বিছানার সাথে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ সময় তিনি নিউমোনিয়া ও বাহুতে মারাত্মক ফোলাভাবের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং ঠিকমতো কোনো কিছু গিলতে পারছিলেন না।
তার মানসিক স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে আইনজীবী স্পাইভি বলেন, 'এর ফলে তার ওপর দিয়ে যে ধকল গেছে, তার স্থায়ী পরিণতি কী হবে তা আমরা জানি না।' তিনি আরও বলেন, পাইক বর্তমানে "ক্ষিপ্ত ও বিভ্রান্ত" বোধ করছেন।
