প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ‘ককরোচদের’ বিক্ষোভ: দিল্লিতে ৪,০০০ পুলিশ মোতায়েন, বন্ধ ১১ মেট্রো স্টেশন
নির্বাচন কমিশনের 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার যন্তর মন্তরে একাধিক সংগঠনের প্রতিবাদের ঘোষণা ঘিরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
একজন কর্মকর্তা জানান, 'জেলা পুলিশ, রিজার্ভ ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীকে তলব করা হয়েছে।' তিনি আরও জানান, 'নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২০টি কোম্পানিও মোতায়েন থাকবে।' পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই সমাবেশে আনুমানিক ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে, যা বিবেচনা করে সমগ্র এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শুক্রবার দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটির রাজধানীর ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওড়ি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং নয়া দিল্লি।
সরকারের আশঙ্কার কারণে চলতি বছরেই এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো রাজধানীর বাসিন্দারা গণপরিবহন ও যাতায়াত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত জুলাই মাসে জাতীয় রাজধানীতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-চালিত ছাত্র আন্দোলনের সময় দিল্লির ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক পিটিশনের শুনানিতে গত মাসে কেন্দ্র সরকারকে নোটিশ জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশ জানায়, এই সপ্তাহে যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য কোনো সংগঠনকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আজ সকাল ১১টায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএ) জানিয়েছে, তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ করবে। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বরার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার সকাল ১১টার প্রস্তাবিত কর্মসূচির বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় একটি লিখিত তথ্যপত্র জমা দিয়েছিল।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক নীতি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন। তবে মুম্বাই পুলিশও সিজেপি-কে শিবাজি পার্কে এই আন্দোলন করার কোনো অনুমতি দেয়নি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান ইউথ কংগ্রেসও যন্তর মন্তরে নতুন কর্মসূচির জন্য অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
যন্তর মন্তরের আশপাশের এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সুরক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমএইচএ) কাছে "অতিরিক্ত বাহিনী" মোতায়েনের আবেদন জানিয়েছে।
দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী তলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ থেকে শুরু করে যন্তর মন্তর পর্যন্ত বহুস্তরের ব্যারিকেড তৈরি করেছে। সমগ্র প্রতিবাদস্থলটি তলস্টয় মার্গ এবং কেরালা ভবন—দুই দিক থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। এছাড়া অশোকা রোডের কাছেও অতিরিক্ত ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
