সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ যন্তর মন্তর: দিল্লি পুলিশ
ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিল করেছে দিল্লি পুলিশ। এর পরিবর্তে বিক্ষোভের জন্য নতুন তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আদেশের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।
দিল্লি হাইকোর্টে এ তথ্য জানান সরকারের পক্ষে থাকা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) চেতন শর্মা। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনের শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন। ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব এ আবেদন করেছেন। মামলাটির শুনানি করেন বিচারপতি অমিত মাহাজন।
গত ১২ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ জানায়, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আয়োজনের নিয়মকানুন সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানটিকে আর নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসেবে গণ্য করা হবে না। এর পরিবর্তে বুরারি ময়দান, রামলীলা ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আবেদনে উদয় ভানু চিব আরও বলেছেন, সরকারিভাবে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানেও অনুমতি না দেওয়ার নীতি ঠিক নয়। তার যুক্তি, বিক্ষোভের অনুমতি না দিয়ে সব ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি না করে প্রয়োজন অনুযায়ী এবং যুক্তিসংগত শর্ত মেনেই কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রয়োগ করা উচিত।
এর আগের শুনানিতে এএসজি চেতন শর্মা যুক্তি দেন, যেহেতু যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই চিবের আবেদনটির আর কোনো কার্যকারিতা নেই।
তবে চিবের পক্ষে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা বলেন, 'আবেদনটি কার্যকারিতা হারায়নি। যদি এটাই কৌশলে এড়ানোর চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে অনেক কিছু বলার আছে… নোটিশ জারি করতে হবে এবং বিষয়টি শুনানির জন্য নিতে হবে। অবশ্যই আমরা আবেদন সংশোধন করব, কিন্তু বিষয়গুলোর শুনানি করতেই হবে।'
বিচারপতি মাহাজন নথিভুক্ত করেন, বর্তমানে যে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে, তা 'একাডেমিক' বা তাত্ত্বিক প্রকৃতির। এরপর আদালত দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেন। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এএসজি শর্মা জোর দিয়ে বলেন, আবেদনটির পেছনে থাকা কারণ আর বহাল নেই। তিনি বলেন, 'আজকের হিসাবে, ভালো হোক বা মন্দ, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুসারে আমরা যন্তর মন্তরের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের স্বীকৃতি বাতিল করেছি।'
১০ অক্টোবরের জন্য ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেট্রো ও অন্যান্য পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের ৯ অক্টোবরের আদেশের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
এএসজি শর্মা সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, আদালত বলেছিলেন, 'শুনানির সময় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল… শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার সময় এসেছে। সে লক্ষ্যে এমন উপযুক্ত বিকল্প স্থান চিহ্নিত ও নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যেখানে এ ধরনের অবকাঠামো স্থাপন করা সম্ভব হবে—যাতে বিক্ষোভ আয়োজনে সুবিধা হয়। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে এ প্রস্তাব বিবেচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে বলা হোক…'
এএসজি শর্মা আরও বলেন, 'আমরা ঠিক সেটাই করেছি এবং এখন সেই সিদ্ধান্তকেই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।'
