ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রধান পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে ফের বিক্ষোভের ডাক ‘ককরোচ পার্টির’
ভারতের ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে তরুণদের দল 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। গত জুলাইয়ে ভারতে আলোচিত 'জেন-জি' আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি শনিবারের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে 'ভারতের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি' বলে আখ্যায়িত করেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে ক্ষমতাসীনদের অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, 'এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার কে ভোট দিতে পারবে তা বেছে নেওয়ার ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে, অথচ নিয়ম অনুযায়ী ভোটারদেরই সরকার বেছে নেওয়ার কথা ছিল।'
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। গত বছর শুরু হওয়া নির্বাচন কমিশনের 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (এসআইআর) প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
গত বুধবার ভারতীয় দৈনিক 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের অপর দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী এসআইআর প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে অন্তত ১৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
ওই দুই কমিশনার অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করা এবং বিদ্যমান নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া ভোটার তালিকা তৈরির সফটওয়্যারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজ্য কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে দিল্লির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ভোটার ডেটাবেস এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়েও তাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন।
নির্বাচন কমিশন এই অসন্তোষকে স্বাভাবিক দাবি করে এক বিবৃতিতে বলেছে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে আলোচনার টেবিলে ভিন্নমত ও পর্যবেক্ষণ থাকা কাজেরই একটি অংশ। তবে খসড়া তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোটারের নাম কর্তন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো সরাসরি মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াটি প্রথমে বিহারে শুরু হয়েছিল, যেখানে বিধানসভার ২৪৩টি আসনের মধ্যে মোদির জোট ২০০টিরও বেশি আসনে জয় পায়। ২০২৪ সালের জুনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে জোট সরকার গঠন করলেও সম্প্রতি রাজ্য নির্বাচনগুলোতে বড় সাফল্য পেয়েছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি; এমনকি চলতি বছরের শুরুতে তারা প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও সরকার গঠন করেছে।
