আদালতের নির্দেশে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফেরালো হোয়াইট হাউস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে আদালতের আদেশের পর সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত জানায় হোয়াইট হাউস।
এর আগে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর করা এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ টিম কেলি ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার ওপর ১৪ দিনের স্থগিতাদেশ দেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রবেশপত্র (প্রেস পাস) বাতিল করার বিষয়টি সম্ভবত তাদের 'সাংবিধানিক যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে।'
একই সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে মার্কিন বিচার বিভাগের তোলা 'জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি'র যুক্তিকেও তিনি খারিজ করে দেন।
বিচারকের ওই আদেশের পরও বৃহস্পতিবার সকালে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পলিটিকোর সাংবাদিকের প্রবেশপত্র জব্দ করা হয় এবং এমএস নাও ও সিএনএনের কর্মীদেরও ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এতে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে সংবাদমাধ্যমগুলো আদালতে তাৎক্ষণিক শুনানির আবেদন জানায়। এর জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস অপারেশন ডিরেক্টর মিকাহ স্টপারিচ আদালতকে জানান, সকাল থেকেই প্রেস ব্যাজ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং 'সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ প্রবেশদ্বারে সাংবাদিকদের জন্য ব্যাজগুলো রেখে আসা হয়েছে'।
স্টপারিচের ঘোষণাপত্র পাওয়ার পর বিচারক সংবাদমাধ্যমগুলোর জরুরি শুনানির আবেদন নাকচ করে দেন। তবে দিনের পরে পরিস্থিতির কোনো বাস্তব পরিবর্তন ঘটলে তা তাকে জানাতে সংবাদমাধ্যমগুলোকে সুযোগ দেন।
ট্রাম্প ও সংবাদমাধ্যমের এই তীব্র দ্বন্দ্ব এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নিচ্ছেন এবং হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সিএনএনের প্রতি সংহতি জানিয়ে হোয়াইট হাউস টেলিভিশন প্রেস পুল আগেই তাদের যৌথ কভারেজ স্থগিত করেছিল। ফলে বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সি জিনপিংয়ের আগমন উপলক্ষে কোনো টিভি পুল ক্যামেরা ছিল না এবং ফক্স নিউজ, এমএস নাও ও সিএনএন এই অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করেনি। ওভাল অফিসে সি জিনপিংকে স্বাগত জানানোর সময় ট্রাম্প আলোকচিত্রীদের সামনে রসিকতা করে বলেন, চীনা সাংবাদিকদের আচরণ সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ।
গত শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তিন সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, তারা 'কল্পকাহিনী ও মিথ্যা' প্রচার করে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
মার্কিন বিচার বিভাগও দাবি করে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মজুত, হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ এবং রিপাবলিকান কনভেনশনের উপস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।
তবে বিচারক কেলি তার আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই সংবাদমাধ্যমগুলোর পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা পাবে—নথিপত্রে এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবী থিওডোর বুট্রোস বলেন, 'এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখার পক্ষে এক জোরালো রায়। আদালতের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই।'
উল্লেখ্য, বিচারক কেলির এই আদেশের আগের দিনই আরেকটি আইনি ধাক্কা খান ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার আইওয়ার একটি আদালত ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের আগে পরিচালিত একটি জনমত জরিপ নিয়ে স্থানীয় সংবাদপত্র 'ডেস ময়েস রেজিস্টার' ও জরিপকারী জে. অ্যান সেলজারের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের একটি মামলা খারিজ করে দেন। আদালত রায় দেন, ওই জরিপটি আইনগতভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার আওতাভুক্ত ছিল।
