মলদোভায় ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল জেলেনস্কিকে বহনকারী বিমান: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী
মলদোভায় ড্রোনের হামলার মুখে পড়েছিল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি বিমান। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর গত বুধবার দেশটির পাবলিক ব্রডকাস্টারকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ডের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে গত মঙ্গলবার অসলো যাওয়ার পথে কিশিনাউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই নিরাপত্তা হুমকির কারণে জেলেনস্কির যাত্রা বিলম্বিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বুধবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেন।
তবে কে বা কারা এই ড্রোন হামলা চালিয়েছিল কিংবা জেলেনস্কির বিমানের কত কাছাকাছি এটি এসেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের ভূখণ্ডে বিমান হামলা জোরদার করেছে এবং বেশ কয়েকটি ন্যাটো দেশ মস্কোর বিরুদ্ধে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইউক্রেন, রাশিয়া, মলদোভা এবং নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মলদোভা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে তাদের নজরদারি সিস্টেমে একটি 'আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু' ধরা পড়ার পর তারা আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। তবে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী যে ড্রোনের কথা বলেছেন, এটি সেটাই কি না, তা পরিষ্কার নয়। রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মাঝে অবস্থিত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের এই নিরপেক্ষ দেশটি রাশিয়া থেকে প্রায় ৩৫০ মাইল দূরে অবস্থিত এবং তারা ন্যাটো ও রাশিয়া উভয় পক্ষের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলে।
মলদোভার প্রধানমন্ত্রী ভ্যাসিল তোফান গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ২০২৬ সালে দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে ৩০টির বেশি ড্রোন, যার মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই ছিল ১৭টি। তিনি লেখেন, 'ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই অমানবিক যুদ্ধ আমাদের নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে ফেলছে।' এ ছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট মায়া সান্দু সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধরেখা আরও পশ্চিম দিকে সরে আসছে, 'যে কারণে ইউক্রেনের জন্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।'
