মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ‘নেতৃত্বে শূন্যতা’ তৈরির অভিযোগ, হেগসেথকে বরখাস্তের আহ্বান রিপাবলিকান সিনেটরের
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে 'নেতৃত্বে শূন্যতা' তৈরি করার অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বরখাস্ত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে টিলিস হেগসেথের সঙ্গে সাবেক আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকলের তুলনা করেন। পেন্টাগনের প্রধান হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধের খবরের মধ্যে সোমবার পদত্যাগপত্র জমা দেন ড্রিসকল।
নর্থ ক্যারোলাইনার ওই সিনেটর লেখেন, 'দেশের জন্য কাজ করা সাহসী নারী-পুরুষদের এত অদক্ষভাবে পরিচালনা করতে কাউকে আমি আগে কখনো দেখিনি। তিনি দক্ষ ব্যক্তিদের ভয় পান। দেশের প্রতিরক্ষা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ না দিয়ে তিনি বরং সাংস্কৃতিক বিভাজনের ইস্যু উসকে দিচ্ছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানাই, পেন্টাগনের জন্য এমন একজন নতুন নেতা খুঁজে নিতে, যিনি আমাদের সামরিক বাহিনীর দক্ষ জনবলকে আরও শক্তিশালী করবেন ও তাদের কাজের সুযোগ দেবেন, দুর্বল করে দেবেন না।'
টিলিস ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্য। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলের ভেতর থেকেই তিনি ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচক হয়ে উঠেছেন। তার আশঙ্কা, এসব নীতি গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
২০২৫ সালের জুনে ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে টিলিস ঘোষণা করেন, নভেম্বরের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। আগামী জানুয়ারিতে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া সিনেটরদের মধ্যে টিলিসও ছিলেন। সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য ও টেলিভিশন উপস্থাপক হেগসেথের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে আচরণ এবং তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও তিনি তাকে সমর্থন করেছিলেন।
তবে সিনেটে হেগসেথের নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শেষ মুহূর্তে টিলিস তার পক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এতে মনে হয়েছিল, বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে তারও কিছু উদ্বেগ ছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হেগসেথ পেন্টাগনে বেশ কিছু বিতর্কিত পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার চেষ্টাও রয়েছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে যুদ্ধের ধরন কীভাবে বদলে যাচ্ছে, সেদিকেও টিলিস ইঙ্গিত করেন।
তিনি বলেন, 'ইউক্রেন ও ইরানের মতো জায়গায় যুদ্ধ সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণা ও হিসাব-নিকাশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ড্যান বুঝতে পেরেছেন, পুরোনো পদ্ধতিতে আর কাজ হবে না।'
এরপর টিলিস ইঙ্গিত দেন, হেগসেথের অব্যবস্থাপনার কারণেই ড্রিসকলকে দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে।
টিলিস বলেন, 'প্রতিরক্ষামন্ত্রী যদি একই অগ্রাধিকার ধরে রেখে ভবিষ্যৎমুখী চিন্তা করতেন, তাহলে ড্যান এবং তার মতো দক্ষ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধরে রাখার চেষ্টা করতেন। বরং তিনি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে একটি শূন্যতা তৈরি করছেন।'
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে হিমশিম খাওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হেগসেথের ওপর নজরদারি ও সমালোচনা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যুদ্ধ ছয় মাসে গড়িয়েছে। তবে এটি শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে পেন্টাগনের অস্ত্রের মজুত কমে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তার ওপরও। নভেম্বরে কংগ্রেসের নির্বাচনের আগে প্রশাসনের জনসমর্থন কমে গেছে।
৩১ আগস্ট প্রকাশিত ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়েছে। একই সঙ্গে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়।
