মার্কিন সেনাদের সক্ষমতা যাচাইয়ে ‘টেস্টোস্টেরন’ পরীক্ষার নির্দেশ দিলেন পিট হেগসেথ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ৩০ বছরের বেশি বয়সী সেনাসদস্যদের টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার এক ঘোষণায় তিনি বলেন, নতুন এ নীতির মাধ্যমে 'আমাদের যোদ্ধাদের' লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক সক্ষমতা বা শারীরিক ভিত্তি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা যাবে।
তবে এ সিদ্ধান্তে নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নতুন নীতির আওতায় টেস্টোস্টেরন পরীক্ষাকে সেনাবাহিনীর নিয়মিত বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ করা হবে।
৩০ বছরের কম বয়সী সেনাসদস্যরা চাইলে স্বেচ্ছায় এ পরীক্ষা করাতে পারবেন।
এক্স-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে হেগসেথ বলেন, সেনা সদস্যদের প্রতিদিন মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় কাজ করতে হয়। দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা রয়েছে কি না, নতুন এ পরীক্ষা তা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, কারো টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে তিনি চাইলে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নিতে পারবেন।
তবে কৃত্রিমভাবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়ানোর এ চিকিৎসা নিতে কোনো সেনাসদস্য অস্বীকৃতি জানালে কী হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
এ সিদ্ধান্ত নারী সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। কারণ গড়ে নারীদের শরীরে পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কম টেস্টোস্টেরন থাকে।
তবে তাদের এ পরীক্ষার বাইরে রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে হেগসেথ কোনো ইঙ্গিত দেননি।
দ্য টেলিগ্রাফ এ বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা চাইলে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান প্রমিলা জয়াপাল সেনাদের জন্য টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির পরিকল্পনাকে 'জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার'-এর একটি রূপ বলে মন্তব্য করেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'এটি ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের সব সমালোচনাকেই সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করে।'
তিনি প্রশাসনের জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার, বিশেষ করে হরমোন থেরাপির সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
প্রথাগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ মার্কিন সেনাবাহিনীতে খ্রিস্টান রক্ষণশীল মূল্যবোধের প্রভাব জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করা হেগসেথ তার টেস্টোস্টেরন কর্মসূচিকে সেনাদের সহনশীলতা, কর্মদক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য একটি 'পবিত্র দায়িত্ব' হিসেবে বর্ণনা করেন।
পেন্টাগনের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে হেগসেথ ব্যাপক সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি 'ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার' নামে পুনর্নামকরণ করা বিভাগটিকে কঠোর যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, তার 'ওয়ারিয়র এথোস' দর্শনের লক্ষ্য মার্কিন সেনাবাহিনী থেকে 'ওয়োক আবর্জনা' দূর করা।
হেগসেথ বারবার অভিযোগ করেছেন, যোগ্যতার পরিবর্তে বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার কোটার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ায় শ্বেতাঙ্গ পুরুষরা বঞ্চিত হয়েছেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মঙ্গলবার বর্তমান ও সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, তিনি সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনীর সাত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারী বা বর্ণগত সংখ্যালঘু।
এর ফলে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবারই প্রথম কোনো কর্মরত নারী নৌ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পাবেন না।
অভিযোগ রয়েছে, হেগসেথ এখন পর্যন্ত দুই ডজনের বেশি জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে বরখাস্ত বা কার্যত দায়িত্বের বাইরে সরিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৪০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম পদোন্নতির তালিকা থেকেও বাদ দিয়েছেন, যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী বা কৃষ্ণাঙ্গ।
গত ডিসেম্বরে এনপিআর জানায়, পেন্টাগন স্থলযুদ্ধের দায়িত্বে থাকা নারী সেনাসদস্যদের ভূমিকা নিয়ে ছয় মাসের একটি পর্যালোচনা শুরু করেছে, যার উদ্দেশ্য সামরিক বাহিনীর 'কার্যকারিতা' নিশ্চিত করা।
গত মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী সেনাসদস্যের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৭৪১ জন, যা মোট বাহিনীর ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
