তিব্বতের বন্যায় ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় চীনের তিব্বত অঞ্চলে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
রোববার চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। চীনের অংশে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত এটি কর্তৃপক্ষের দেওয়া সবচেয়ে বিস্তারিত হিসাব।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৪ জন নেপালের নাগরিক। এরপর রয়েছেন ৪৯ জন ভারতীয়, ৩৩ জন লাটভীয়, ১৮ জন মার্কিন এবং ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক।
তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকারের এক সংবাদ সম্মেলনের বরাত দিয়ে সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নেপালে রোববার সকাল পর্যন্ত এ দুর্যোগে ৭৩৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় গত বুধবার বন্যা আঘাত হানে। তবে তিব্বতের চীনা অংশে ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে শুরু থেকেই খুব সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে বেইজিং।
তিব্বত চীনের সবচেয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর একটি। বন্যার পর চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বাইরে প্রকাশিত দুর্যোগসংক্রান্ত অনেক ছবি ও ভিডিও সেন্সর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে থাকা মানুষ ও পর্যটকদের ধারণ করা ছবি ও ভিডিওও রয়েছে।
বড় ধরনের দুর্যোগের পর তথ্য নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগ চীনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নতুন নয়। জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ক্ষোভ বা সমালোচনা ঠেকাতে দেশটি প্রায়ই দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোববার চীনা কর্মকর্তারা এ ভয়াবহ দুর্যোগ কীভাবে ঘটেছিল, তার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত সময়রেখা তুলে ধরেন।
চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের অধ্যাপক সু পেংচেং জানিয়েছেন, নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে হিমবাহের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। রিমোট সেন্সিংয়ের তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বরফের বিশাল অংশটি প্রায় ৪ হাজার ফুট নিচে নেমে পাহাড়ের ঢাল ধসিয়ে দেয়। ড. সু একে 'বিরাট ভূমিধস' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপটি উচ্চগতিতে প্রায় ১৩ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নেপাল-চীন সীমান্তের গিরং বন্দর এলাকায় আঘাত হানে।
তিনি জানান, এ দুর্যোগে প্রায় ১৭২ একর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সীমান্ত পারাপারের ওই এলাকায় ২৭টি ভবন ধ্বংস হয়েছে।
ভূমিধসের ৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর শুক্রবার বিকেলে চীনা উদ্ধারকর্মীরা বিধ্বস্ত সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান। ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক, অব্যাহত বৃষ্টি এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কারণে দুর্গম ওই এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীন হেলিকপ্টার পাঠিয়ে ৯৪ জন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করেছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার নেপালের উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। চীনা দূতাবাসের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে চীন পাঁচজন টানেল বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। শিগগিরই আরও চারজন বিশেষজ্ঞ পাঠানো হবে।
